বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: চার থেকে পাঁচদিন কিংবা তারও বেশি সময় ধরে বরফে ঢাকা ইলিশ খেতে অভ্যস্ত শহরের মানুষ। কারণ যেখানে ইলিশ ধরা হয় সেই সাগর এলাকার অবস্থান কলকাতা শহর ও শহরতলির বড় ও মাঝারি বাজারগুলি থেকে দূরে। তবে যদি বলা হয়, বরফের নয় সরাসরি গঙ্গা থেকে ধরা টাটকা ইলিশ এবার পাওয়া যাবে। তাহলে কিরকম লাগবে? গল্প নয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ দু’নম্বর ব্লকের নোদাখালির রায়পুরে গঙ্গার গায়ে মৎস্যজীবীদের গ্রাম গদাখালি। সেখানে বরফ ছাড়া টাটকা রুপোলি মাছ পাওয়া যায়।
একদিন নয়, প্রতিদিন সকাল ও বিকেল গদাখালি বাজারে এই মাছ মিলবে। শুধু তাই নয়, যদি কেউ সেই টাটকা ইলিশ ভাজা খাওয়ার স্বাদ পেতে চান, সেই সুযোগও পাবে। তবে এর জন্য অতিরিক্ত পয়সা দিতে হবে। টাটকা ইলিশের দাম কলকাতার বাজারের তুলনায় কিছুটা কম। এক কেজি ওজনের দাম ১৮০০ টাকা। যা বরফ দিয়ে ঢেকে কলকাতার বাজারে দু’হাজারে বিকোয়। এর নীচে ওজন হলে আটশো থেকে ছশো টাকার মধ্যে দাম ঘোরাফেরা করে। এই দাবি গদাখালি বাজারের মৎস্যজীবীদের।
গজাপোহালি গ্রাম পঞ্চায়েতের ভিতর রায়পুরে এই গদাখালি গ্রামটি নদীবাঁধের গায়ে। এখানে সবমিলিয়ে চারশোর মতো নৌকা আছে। কয়েকশো পরিবার এই নৌকা নিয়ে মাছ ধরে। এটাই পেশা বহু বছর ধরে। এলাকার মৎস্যজীবীদের কথায়, এক সময় শীত ও বর্ষায় গদাখালি সংলগ্ন নলদাঁড়ি, বুড়ুল ঘেষা এই গঙ্গানদীর অংশে ইলিশের আনাগোনা ছিল বেশি। এখন সেই তুলনায় কিছুটা কম। কিন্তু তবুও মাছ উঠছে। আগে গদাখালিতে মাছের বাজার ছিল না। প্রতিদিন বিকেলে মৎস্যজীবীরা ইলিশ পেলে হাতে করে নিয়ে দাঁড়াতেন। বাইরে থেকে ঘুরতে আসা মানুষ কিনতেন। এখন অবশ্য গদাখালিতে নদীবাঁধের রাস্তার উপর মাছের বাজার বসছে দু’বেলা। স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিবারের মহিলা সদস্যরা ইলিশ বিক্রি করেন। এর সঙ্গে নদীর টাটকা চিংড়ি, ভোলা মাছ থাকে। এদের একজন স্বপ্নাদেবী। তাঁর কথায়, বেশ কয়েক বছর ধরে এখানে মাছের ব্যবসা করছি। নৌকা করে জাল পেতে রাখা হয় নদীতে। প্রতিদিন ইলিশ ছাড়াও অন্য হরেক মাছ ওঠে। তবে শীত এবং এই সময় বরফ ছাড়া ইলিশ বেশি বিক্রি হয়। স্বপ্নাদেবীর মতো আরও আট থেকে দশজন মহিলা মাছ নিয়ে বসেন। নানা আকারের ইলিশ সাজানো। এখন রায়পুরে সব সময় বাইরে থেকে গঙ্গার দিকে কলকাতার প্রচুর মানুষ বেড়াতে আসেন। অধিকাংশ এই টাটকা ইলিশের ক্রেতা তাঁরাই। ফলে চাহিদা আছে এই টাটকা ইলিশের। -নিজস্ব চিত্র