Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফ্রিজে তাজা খাবার, ঘরে জ্বলছে আলো মহিলার মৃত্যু কবে, ধন্দে পুলিস-প্রতিবেশীরা

ফ্রিজে ঠাসা খাবার। দই, ছানা, মিষ্টি, ফল ও ফয়েল প্যাকে থরে থরে সাজানো বিভিন্ন পদ। এমনকী ভাঁড়ে থাকা দইও সতেজ।

ফ্রিজে তাজা খাবার, ঘরে জ্বলছে আলো মহিলার মৃত্যু কবে, ধন্দে পুলিস-প্রতিবেশীরা
  • ২১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ফ্রিজে ঠাসা খাবার। দই, ছানা, মিষ্টি, ফল ও ফয়েল প্যাকে থরে থরে সাজানো বিভিন্ন পদ। এমনকী ভাঁড়ে থাকা দইও সতেজ। ঘরে আলো জ্বলছে। অথচ, ঘরের মধ্যেই পড়ে রয়েছে কঙ্কালসার মৃতদেহ। দক্ষিণ দমদমে বন্ধ ঘর থেকে মহিলার মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য ক্রমেই দানা বাঁধছে। মহিলার মৃত্যু কবে, সেই প্রশ্নই জোরালো হয়ে উঠেছে। তদন্তকারীরাও নির্দিষ্ট কোনও সূত্র খুঁজে পাচ্ছেন না। তাঁরা এখন তাকিয়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকে। তিন বছর আগে ওই মহিলার মায়ের মৃতদেহ ওই ঘর থেকেই উদ্ধার হয়েছিল। সেক্ষেত্রেও মৃত্যুর বেশ কয়েকদিন বাদে উদ্ধার হয়েছিল দেহ। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। পুলিস জানিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের এম সি গার্ডেন রোডের বাসিন্দা ছিলেন জোৎস্না ধাড়া ও ধীরেন্দ্র ধাড়া। সাতের দশকে তাঁরা নিজেদের বাড়িতে একটি বেসরকারি প্রাথমিক স্কুল চালু করেছিলেন। জনপ্রিয় ওই স্কুলে শহরের বহু প্রথিতযশা মানুষের হাতেখড়ি হয়েছিল। তাঁদের মৃত্যুর পর স্কুলের হাল ধরেছিলেন ছোট মেয়ে সুপর্ণা ধাড়া। অপর দুই মেয়ে বিবাহিতা। তাঁরা থাকেন অন্যত্র। বছর খানেক আগে এই স্কুলটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দোতলা বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন সুপর্ণাদেবী। শনিবার দুপুরে বন্ধ ঘরের ভিতর থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ২০২২ সালে জোৎস্নাদেবীর মৃতদেহ ওই ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল। তবে বেশ কয়েকদিন পর জানা গিয়েছিল তাঁর মৃত্যুর খবর। সেই সময় মায়ের মৃতদেহের সঙ্গে একই বাড়িতে ছিলেন সুপর্ণাদেবী। কাকতালীয় হলেও এবার মায়ের মতোই সুপর্ণাদেবীর মৃতদেহ ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যু কবে হয়েছে, মৃত্যুর কারণ কী, খুন নাকি দুর্ঘটনা— তা নিয়ে রহস্য ক্রমেই বাড়ছে।

Advertisement

স্থানীয়রা বলছেন, গত বছর নভেম্বর মাস থেকে সুপর্ণাদেবীকে দেখতে পাননি প্রতিবেশীরা। গত ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বাড়ি থেকে পচা দুর্গন্ধ বেরলে আশপাশের লোকজন বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলার সুকান্ত সেনশর্মাকে জানান। এরপর পুলিস এসে ঘর খুলে তল্লাশি চালালেও কোথাও কোনও গন্ধ না পেয়ে চলে গিয়েছিল। যদিও পুলিসের একাংশের দাবি, সেই সময় একটি ঘর বন্ধ অবস্থায় ছিল। সেটি না দেখেই চলে এসেছিলেন তাঁরা। সেখান থেকেই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। তৎকালীন নাগেরবাজার থানা ও ঘুঘুডাঙা ফাঁড়ির পুলিসকর্মীরা তালা ভেঙে ঘরে ঢোকার পরও কেন দায়সারা তল্লাশি করলেন? তখন সুপর্ণাদেবী বেঁচেছিলেন, নাকি মারা গিয়েছিলেন? যদি তখন মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে এই মৃতদেহ আদৌ কি আট মাসের পুরনো? তাহলে ফ্রিজে টাটকা খাবার এল কোথা থেকে? কেই বা জ্বালালো ঘরের আলো? কাউন্সিলার সুকান্তবাবু বলেন, আমিও ওই স্কুলের ছাত্র। এলাকাবাসীর মতো আমার মনেও প্রচুর প্রশ্ন। আমি চাই, পুলিস সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করুক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ