Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাঁথির নয়াপুটে প্রাচীন রক্ষাকালী পুজো ও মেলা ঘিরে উন্মাদনা

কাঁথির নয়াপুটে প্রাচীন রক্ষাকালী পুজো ও মেলা ঘিরে উন্মাদনা
  • ২১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌমিত্র দাস, কাঁথি: কাঁথি-১ ব্লকের নয়াপুট পঞ্চায়েতের চেঁচুড়াপুট ও পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ করঞ্জি গ্রামের সম্মিলিত আয়োজনে প্রাচীন রক্ষাকালী পুজো ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের শেষ নেই। আগামী কাল, শনিবার থেকে পাঁচদিনব্যাপী পুজো শুরু হচ্ছে। কবে থেকে এই পুজো শুরু হয়েছে তার প্রকৃত তথ্য কারও কাছে নেই। কেউ বলেন, এই পুজো ৫০০বছরের বেশি, কেউ বলেন ৪০০বছরের প্রাচীন। পুজো উপলক্ষ্যে বসে বিরাট মেলা। থাকে যাত্রা সহ নানা অনুষ্ঠান। দু’টি গ্রাম সহ দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ তাতে  শামিল হন। পাঁচদিন ধরে লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ জমজমাট হয়ে ওঠে। পুজো ঘিরে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়। মেলা কমিটির কর্মকর্তারা বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহ ঘটোত্তলনের মাধ্যমে পুজোর সূচনা হবে। রাতে পাঁচ হাজারের বেশি মহিলা-পুরুষ ভক্ত মায়ের কাছে পুজো দেবেন। পুজোয় মানত হিসেবে দু’-আড়াই হাজার হাঁড়ি ক্ষীরভোগ(পায়েস) রান্না হয়। মঙ্গলগানের আয়োজন করা হয়। তাসাপার্টির বাজনার পাশাপাশি রঙিন আতসবাজি বিশেষ আকর্ষণ। সারারাত ধরেই মেলা চলে। ভোরে পুজো শেষ হয়। পুজো শেষে পাঁচ কুইন্টালেরও বেশি বাতাসা হরিলুট হয়। সকালে মায়ের জাঁকজমকপূর্ণ প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। তিনদিন যাত্রা ছাড়াও শেষদিনে রয়েছে তারকা শিল্পীদের সমন্বয়ে সঙ্গীতানুষ্ঠান। 

Advertisement

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, তৎকালীন সময়ে উপকূলবর্তী এই এলাকা গভীর জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল। সারা অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বেশ কয়েকটি বাড়ি ছিল। ফি-বছরই এলাকায় কলেরা ছড়িয়ে পড়েছিল। সঙ্গে ছিল অন্যান্য অসুখ-বিসুখ। ডাক্তার নেই, হাসপাতাল নেই। রোজই কলেরায় ভুগে মৃত্যুতে একের পর এক গ্রাম নিশ্চিহ্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সেই সঙ্কট থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মা রক্ষাকালীর পুজো শুরু করেন এলাকার বাসিন্দারা। জঙ্গল সাফ করে ঘটে রক্ষাকালীর পুজো শুরু হয়। রক্ষাকালীকে স্থানীয় মানুষজন ‘জঙ্গল পেত্নী’ বলে আখ্যা দিতেন। পুজো উপলক্ষ্যে ‘ব্যাড়া’ নামে মঙ্গলগানের আয়োজন করা হতো। তবে ব্যাড়া মঙ্গলগানের চল এখন নেই। গ্রামবাসীরা বিশ্বাস করতেন, পুজো এবং মঙ্গলগানের মধ্য দিয়ে মা রক্ষাকালী কলেরা মহামারী কিংবা অন্যান্য রোগ-শোক থেকে রক্ষা করবেন। পুজো শুরু হওয়ার পরই মহামারীর প্রকোপ ক্রমশ কমতে থাকে বলে অনেকের বিশ্বাস। রক্ষাকালীর প্রতি বিশ্বাস আরও মজবুত হয়। প্রথমে ঘটে পুজো হলেও পরবর্তীকালে মাটির মন্দিরে পুজো হতো। বেশ কয়েক বছর আগে দু’টি গ্রাম সহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় বড়সড় পাকা সুদৃশ্য মন্দির গড়ে উঠেছে। সেখা঩নেই মায়ের পুজো হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ