বোস্টন: ১৭৮১ সাল। ইংল্যান্ডের লাগামছাড়া করের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে আমেরিকা। শুরু হয় যুদ্ধ। জর্জ ওয়াশিংটন সাহায্য চেয়ে চিঠি পাঠান ফ্রান্সে। বিশাল নৌবহর সাজিয়ে মার্কিনদের পাশে দাঁড়াতে রওনা দেন অ্যাডমিরাল ডি গ্রেস। আমেরিকায় পৌঁছে ফরাসিরা নোঙর করে বোস্টনে। সেখান থেকে জলপথে ইয়র্ক আক্রমণ করে জেনারেল কর্নওয়ালিসের ব্রিটিশ বাহিনীকে হারায় তারা। তিন শতক পর সেই শহরকেই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শিবিরের জন্য বেছে নিয়েছে ফরাসি ব্রিগেড।
ফুটবলার ও কোচ হিসেবে ঈর্ষণীয় সাফল্য রয়েছে দিদিয়ের দেশঁর। অধিনায়ক হিসাবে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি কোচ হিসেবেও হয়েছেন বিশ্বসেরা। ২০১২ সালে দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনটি বিশ্বকাপে হেড স্যারের ভূমিকা পালন করেছেন দেশঁ। এই সময়কালে দু’টি ফাইনাল খেলে একটিতে চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। এবার তাঁর সামনে আরও এক রেকর্ডের হাতছানি। মেগা আসরে ডাগ-আউটে বসে ১৪টি ম্যাচে ইতিমধ্যেই দেশকে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন দেশঁ। আর ৩টি ম্যাচ জিততে পারলেই পিছনে ফেলবেন প্রয়াত জার্মান কোচ হেলমুট শোনকে (১৬)।
২০১৮ সালের শিরোপা জয়ীরা বাছাই পর্বে মাত্র দু’পয়েন্ট খুইয়ে টানা অষ্টমবারের জন্য বিশ্বকাপের ছাড়পত্র পেয়েছে। আসলে দেশঁর তত্ত্বাবধানে ফরাসি ড্রেসিং-রুমে থাকে খোলামেলা আবহ। তবে কাপ যুদ্ধের আগে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে জোর ধাক্কা খেয়েছে ফ্রান্স। ১-২ ব্যবধানে সেই হারের ব্যর্থতা কাটিয়ে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধেই জয়ের সরণিতে ফিরেছে দেশঁ ব্রিগেড। মঙ্গলবার গ্রুপ পর্বের পরীক্ষায় প্রথম প্রতিপক্ষ সেনেগাল। অভিযান শুরুর আগে আত্মবিশ্বাসী দেশঁ বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হিসেবেই মাঠে নামবে দল। পরিকল্পনামাফিক প্রস্তুতি সারা হয়েছে। ফুটবলাররা অভিজ্ঞ, ওরা চাপ সামলাতে পারবে।’