Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডেনমার্কে গবেষণারত গ্রামের কৃতী বানালেন বিনাপয়সার পাঠশালা

পাথরপ্রতিমার দক্ষিণ শিবগঞ্জ শরৎপল্লি গ্রাম। সেখানকার এক যুবক রীতিমতো ভালো পড়াশোনা করে এখন ডেনমার্কে গিয়ে গবেষণা করছেন।

ডেনমার্কে গবেষণারত গ্রামের কৃতী বানালেন বিনাপয়সার পাঠশালা
  • ৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

স্বপন দাস, কাকদ্বীপ: পাথরপ্রতিমার দক্ষিণ শিবগঞ্জ শরৎপল্লি গ্রাম। সেখানকার এক যুবক রীতিমতো ভালো পড়াশোনা করে এখন ডেনমার্কে গিয়ে গবেষণা করছেন। বিদেশে গিয়েছেন বলে নিজের গ্রামকে মোটেও ভুলে যাননি। শরৎপল্লিতে খুলেছেন একটি পাঠাশালা। প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা হয়। জনা তিরিশেক পড়ুয়া প‌঩ড়ে। দু’জন শিক্ষিকা নিয়মিত ক্লাস নেন। দুপুরে খাবারের বিরতির সময় কেক বা বিস্কুট দেওয়া হয় বাচ্চাদের। সবমিলিয়ে মহা আনন্দে চলছে পাঠাশালা। 

Advertisement

ঠিক সকাল সাতটায় পড়ানো শুরু করেন শিক্ষিকারা। শ্রেণিকক্ষ গ্রামের একটি মন্দিরের অফিসঘরে। তিন বছর ধরে একটানা চলছে। এই গ্রামেরই কৃতী ছাত্র ডঃ সমীর মাইতি। এখন ডেনমার্কে থাকেন। করোনার সময় গ্রামের বাড়ি এসেছিলেন। তখন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। ছাত্র-ছাত্রীরা বাড়িতে বসে পড়াশোনা করছে। তিনি দেশে আসার পর অনুভব করেছিলেন, উঁচু ক্লাসের পড়ুয়ারা পড়াশোনা করলেও প্রাথমিকস্তরের শিশুরা শিক্ষার আঙিনা থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর গ্রামে বিনামূল্যে পড়ানোর জন্য পাঠশালা তৈরি করবেন। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধূলা হবে। নাচ, গানের মতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হবে। বাচ্চারা ছবি আঁকা শিখবে। টিফিনের সময় বাচ্চাদের দেওয়া হবে খাবার।
বর্তমানে পাঠশালার দায়িত্বে সমীরবাবুর বাবা ভাগ্যধর মাইতি। তিনি বলেন, ‘সমীর ছাড়াও আরও তিনজন ব্যক্তি সহযোগিতা করেন। কোনও ছাত্র-ছাত্রীর থেকে টাকা নেওয়া হয় না। তবে শিক্ষিকারা বেতন পান।’ ফাল্গুনী ভূঁইঞা নামে এক শিক্ষিকা বলেন, ‘প্রতিদিনই ছাত্রছাত্রীরা ক্লাসে আসে। দু’ঘণ্টা ধরে খুব মজা করে ছবি আঁকে, গান শেখে। প্রতিবছর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। সবাই নাচ, গান, নাটক, ক্যুইজ, আঁকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।’-নিজস্ব চিত্র 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ