নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ডিভিসির ছাড়া জলে পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না, জামালপুর এলাকার বহু জমির ধান জমি নষ্ট হয়েছে। ওই সমস্ত এলাকার চাষিদের বিনামূল্যে ধানের চারা দেওয়া শুরু করল কৃষিদপ্তর। কয়েকদিন আগে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ওঙ্কার সিং মীনা চারা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তারপরই বীজ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কৃষিদপ্তর চারা কিনে চাষিদের হাতে তুলে দিচ্ছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, রায়নার হিজলনা, মুগরা, নতু পঞ্চায়েত এলাকার চাষিদের ধানের চারা দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য এলাকার চাষিদেরও তা দেওয়া হচ্ছে। সরকার চাষিদের পাশে রয়েছে।
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, অতিবৃষ্টি এবং দেবখালের জল উপচে চাষের জমিতে ঢোকে। টানা কয়েকদিন জল জমে থাকার কারণে বহু জমিতে রোপন করা ধানের চারা ও বীজতলাও নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। নতুন করে এখন আর বীজতলা তৈরি করা সম্ভব ছিল না। সেই কারণেই জেলার অন্যান্য প্রান্ত থেকে প্রশাসন বীজ কিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার চাষিদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রশাসনের এই উদ্যোগে খুশি চাষিরা। তাঁরা বলেন, সরকার পাশে না দাঁড়ালে বহু জমি এবার ফাঁকা পড়ে থাকত। চাষিরা আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। সরকার বীজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় চাষিরা আর্থিক লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
এক আধিকারিক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা কৃষিদপ্তরে আবেদন করলে ধানের চারা দেওয়া হবে। এছাড়া বিমা করানোর দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। এবছর গতবারের তুলনায় অনেক বেশি চাষিদের বিমা করানোর টার্গেট নেওয়া হয়েছে। মোবাইল ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। চাষিরা যাতে গ্রামের কাছে ক্যাম্পে গিয়ে বিমা করতে পারেন, তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কৃষিদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, টানা বৃষ্টির জেরে সবজি চাষও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাটোয়া, পূর্বস্থলী, কালনার মতো বহু এলাকার জমি জলমগ্ন হয়ে গিয়েছিল। বহু জমির সবজি পচে গিয়েছে।-নিজস্ব চিত্র