সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পুরুলিয়া জেলার সাঁওতালি মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে যাতে সাঁওতালি মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ না কমে তারজন্য সাঁতুড়ি ব্লক তেলকূপি বারণী সমিতি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ২০২৬ সালে যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক দেবে, তাদের জন্য সোমবার থেকে মধুকুণ্ডা তেলকূপি বারণী ঘাট এলাকায় বিশেষ কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালে যতদিন বিদ্যালয়ে ছুটি থাকবে ততদিন কোচিং চলবে।
সাঁওতালি মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসারে ও ছাত্রছাত্রীদের উন্নয়নে বর্তমানে বেশ কয়েকটি আদিবাসী সামাজিক সংগঠন সক্রিয় হয়েছে। তাদের মধ্যে তেলকূপি বারণী সমিতি অন্যতম। এবছর তারা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাঠরত ছাত্রছাত্রীদের গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে আবাসিক পদ্ধতিতে বিশেষ কোচিং দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। বিনামূল্যে খাওয়া-দাওয়া ও থাকার ব্যবস্থার পাশাপাশি অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের কোচিং দেওয়া হচ্ছে। কোচিংয়ের পাশাপাশি রয়েছে খেলাধুলোর ব্যবস্থা।
বারণী সমিতির তরফে জানানো হয়েছে, সাঁওতালি মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবছর মাধ্যমিকের ১৪ জন এবং উচ্চ মাধ্যমিকের ২০ জন ছাত্রছাত্রী কোচিংয়ে অংশগ্রহণ করেছে।কোচিং নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মোহিতোষ মাণ্ডি, নন্দিতা টুডু বলেন, খুবই ভালো লাগছে। যেন মনে হচ্ছে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রয়েছি। মুক্ত পরিবেশে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তত্ত্বাবধানে পড়াশোনা করছি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তথা সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি বিভাগের কর্মী বেল টুডু বলেন, সাঁওতালি মাধ্যমের বিদ্যালয় গড়ে উঠলেও স্থায়ী শিক্ষক শিক্ষিকা নেই। সমাজের কয়েকজন যুবক যুবতী সাঁওতালি মাধ্যমের পঠনপাঠনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিনাশ্রমে বিদ্যালয়গুলিতে পড়াচ্ছে। শিক্ষক লক্ষ্মীরাম বাস্কে ২৪ ঘণ্টা পড়ুয়াদের গাইড করবেন। সংগঠনের সভাপতি জয়সেন বাস্কে বলেন, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের আসা যাওয়া করতে অসুবিধা হবে। তাই তাদের যতদিন কোচিং চলবে ততদিন আবাসিক ব্যবস্থা করা হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র