নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিয়ম মেনেই ঋণ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। আগামী দিনে ঋণ নেওয়ার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য এবার আইনি ব্যবস্থা নিল সরকার। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় পাস হওয়া ফিসকাল রেসপন্সিবিলিটি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট (এফআরবিএম) সংশোধনী বিলে এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিলের উপর আলোচনায় অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টচার্য জানান, ২০২৯-৩০ অর্থবর্ষ পর্যন্ত রাজ্যের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিএসডিপি) ৩৮ শতাংশ মোট ঋণের সর্বোচ্চ পরিমাণ হিসেবে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিলে আরও বলা হয়েছে, ওইসময় পর্যন্ত প্রতি অর্থবর্ষে রাজকোষ ঘাটতি (ফিসক্যাল ডেফিসিট) জিএসডিপির ৩ শতাংশে রাখা হবে। কেন্দ্রীয় সরকার ২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ পর্যন্ত জিএসডিপির ০.৫ শতাংশ অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার জন্য রাজ্যগুলিকে বিশেষ অনুমতি দিয়েছে। বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য এই ঋণ নেওয়া যায়। তার জন্য রাজ্য সরকারগুলি এখন জিএসডিপির ৩ শতাংশের জায়গায় ৩.৫ শতাংশ প্রতি অর্থবর্ষে ঋণ নিতে পারে। এজন্য অর্থবর্ষের শেষদিকে বিধানসভায় এফআরবিএম আইন সংশোধনে বিল আনা হয়। কিন্তু এবার ওই বিলে ২০২৯-৩০ অর্থবর্ষ পর্যন্ত জিএসডিপি ভিত্তিতে মোট ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া হল।
অর্থমন্ত্রী এদিন বিধানসভায় জানান, বিরোধীরা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যথেচ্ছ ঋণ গ্রহণের যে অভিযোগ করেন, তা ঠিক নয়। রাজ্য সরকার সব নিয়ম মেনে সীমার মধ্যেই ঋণ নেয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার আগে নেওয়া ঋণের বোঝা এখনও তৃণমূল সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। অনেক রাজ্যেরই ঋণের পরিমাণ পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে বেশি। কেন্দ্রীয় সরকারও বিপুল ঋণ নিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্য সরকার ৮১ হাজার ৯৭২ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ঋণ নেওয়া হয় ৭৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। সেই তুলনায় এবার ঋণ বাড়বে ২.৮ শতাংশ ।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দুটি অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন বা ব্যয়মঞ্জুরি বিল পাস হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার বিলের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্য ও পরিসংখ্যানসহকারে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়টি তুলে ধরেন। জবাবি ভাষণে চন্দ্রিমাদেবী জানান, মূলধনী ও সামাজিক খাতে সরকারের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বাংলার বাড়ি, জয় বাংলা পেনশন, কৃষকবন্ধু প্রকল্পে সরকারি বর্ধিত বরাদ্দের পরিমাণ সভায় জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক বঞ্চনার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের তুলনায় রাজ্যের জিডিপির বৃদ্ধির মাত্রা বেশি।