নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: রীতিমতো অফিস খুলে আন্তঃরাজ্য প্রতারণা চক্র চলছিল। চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে মঙ্গলবার দুপুরে বেলডাঙার সারগাছি থেকে চারজনকে পুলিস গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের মধ্যে পাঞ্জাবের দুই বাসিন্দাও রয়েছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সারগাছি বাজার এলাকায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে লোক ঠকানোর কারবার চলছিল। এর আগেও মালদহ এবং বাঁকুড়া জেলায় একই কায়দায় প্রতারণা করেছে এই গ্যাং।
পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম ভগীরথ মাহাত, নিশীথ দাস, কৌশল কুমার, অক্ষয় নারুলা। ভগীরথের বাড়ি বাঁকুড়ার রানিবাঁধ এলাকায়। নিশীথের বাড়ি বহরমপুরে। বাকি দু’জন পাঞ্জাবের বাসিন্দা। তারা এখানে এসে অফিসের টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেওয়ার জন্য কাজ করছিল। মালদহ, বাঁকুড়া এবং অন্যান্য জেলাতেও তারা একই কায়দায় টাকা হাতিয়েছে বলেই মনে করছে পুলিস। ধৃতদের মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদ জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক ভগীরথ ও নিশীথকে পাঁচদিন পুলিসি হেফাজত ও বাকি দু’জনকে ১৪দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। কীভাবে চলত এই প্রতারণা চক্র?
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকজন যুবক এলাকায় ঘুরে বেকারদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ক্রেডিট কার্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে কাজের টোপ দেয়। আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েরা সেই টোপ গিলে ফেলে। কেউ গয়না বন্ধক দিয়ে আবার কেউ জমি বিক্রি করে হাজার হাজার টাকা তুলে দিয়েছে ওই ভুয়ো সংস্থার কর্মীদের হাতে। চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা ছাড়াও বেশকিছু ডকুমেন্ট নেওয়া হয়। কিন্তু দিনের পর দিন কেটে গেলেও কাজ মিলছে না। মঙ্গলবার বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী একত্রিত হয়ে ওই অফিসে এসে ভিড় করেন। অফিসের কর্মীরা তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে বলে অভিযোগ। প্রতিবাদ করলে দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বেলডাঙা থানার পুলিস। কিছুক্ষণের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে তারা। বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে ঘটনাটি জানতে পেরে পুলিস চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পরে তাদের থানায় নিয়ে গিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
বেলডাঙার এসডিপিও উত্তম গড়াই জানান, ধৃত চারজনের মধ্যে ভগীরথ এর আগেও প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সবাই মিলেই প্রতারণা করেছে। স্কিল ডেভলমেন্টের নামে টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছে। কেউ কোনও কাজ পায়নি। বিভিন্ন জায়গায় দিনের পর দিন চলেছে এই প্রতারণার ছক। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত জানার চেষ্টা চলছে।
মালদহের বৈষ্ণবনগরে ধৃতদের একটি অফিস ছিল। এর আগে বাঁকুড়ার রানিবাঁধে একইভাবে বহু মানুষকে প্রতারণা করেছে। মালদহেও বহু মানুষের কাছ থেকে তারা টাকা তুলেছে বলে অভিযোগ। সকলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট এবং কোম্পানির কাগজপত্র খতিয়ে দেখা শুরু করেছে পুলিস। বিক্ষোভকারী এক যুবক বলেন, যেটুকু সঞ্চয় ছিল সবটাই দিয়ে দিয়েছি। ভেবেছিলাম, প্রতি মাসে নির্দিষ্ট বেতনের কাজ মিলবে। উপরন্তু ইনসেনটিভ পাওয়ার কথা বলে এরা প্রলোভন দেখায়। কিন্তু বহুদিন হয়ে গিয়েছে তাও কাজ পাচ্ছিলাম না। আমার মতো অনেকেই টাকা দিয়ে ঠকেছে।