নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: আচমকা এসএমএস আসছে! তাতে থাকছে ট্রাফিক আইন ভাঙার চালান! শুধু তাই নয়, কোথায় কেস খেয়েছেন, তা প্রমাণের জন্য ছবি ও ভিডিও দেখার অপশন দেওয়া হচ্ছে। তার জন্য অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হচ্ছে। সেই অ্যাপ থেকে ফাইন পেমেন্টও করা যাবে। কিন্তু, ওই অ্যাপ ডাউনলোড করলেই বিপদ! ফাঁকা হতে পারে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট! কারণ, ট্রাফিক আইন ভাঙার অভিযোগে এখন ভুয়ো চালান পাঠাচ্ছে প্রতারকরা। পুজোর মুখে সাধারণ মানুষ যাতে এই ধরনের প্রতারণার ফাঁদে পা না দেন, তার জন্য সচেতনতা প্রচারে নামে বিধাননগর পুলিস কমিশনারেট।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারকরা এসএমএস এবং হোয়াটসঅ্যাপও করছে। উপরে লেখা থাকছে, ‘ট্রাফিক ভায়োলেশন নোটিস’। তারপর কী কারণে চালান পাঠানো হয়েছে, তা উল্লেখ করা থাকছে। চালান সম্পর্কে ছবি, ভিডিও দেখার জন্য এবং পেমেন্ট করার জন্য নোটিসের মাঝখানে অফিসিয়াল অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হচ্ছে। একেবারে শেষে লেখা থাকছে, ‘ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্ট’! মঙ্গলবার বিকেলে কমিশনারেটের তিনজন ডেপুটি পুলিস কমিশনার (ডিসি) যথাক্রমে ডিসি (বিধাননগর) অনীশ সরকার, ডিসি (ট্রাফিক) নিমা নরবু ভুটিয়া এবং ডিসি (ডিডি) সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ একসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। তাঁরা এই ভুয়ো চালান নিয়ে সচেতন করেন। সেই সঙ্গে আসল চালান, কেমন হয় তার বাখ্যা দিয়েছেন। ডিসি ট্রাফিকের কথায়, আসল চালানে প্রথমে গাড়ির নম্বর থাকে। তারপর তারিখ। এবং শেষে সরকারি ওয়েবসাইট দেওয়া থাকে। এ ক্ষেত্রে তা নেই। আসল চালানে কোনও অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হয় না। ডিসি বিধাননগর বলেন, ওই অ্যাপ ডাইনলোড করলেই সাইবার প্রতারণার শিকার হতে পারেন। তাই সচেতন হতে হবে। ডিসি ডিডি বলেন, ওই অ্যাপ ডাউনলোড করলেই প্রতারকদের হাতে গ্রাহকের মোবাইলের অ্যাকসেস চলে যাবে। অর্থাৎ, প্রতারকরা সেই ফোন অপারেট করতে পারবে। ফলে, অ্যাকাউন্ট থেকে যে কোনও সময় তারা টাকা তুলে নিতে পারবে। এমনকী, ফোনের ক্যামেরার অ্যাকসেসও তারা পেয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, এই ভুয়ো চালান নিয়ে আমরা একটি সুয়োমোটো মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। অ্যাপটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে। সেই সূত্র ধরে আমরা শীঘ্রই এই প্রতারণা চক্রের কিনারা করতে পারব। যদি কেউ এই অ্যাপ ডাউনলোড করে ফেলেছেন, তাহলে অবিলম্বে অফলাইন হয়ে আনস্টল করে দিন।