স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: ‘প্রতিটি ভারতীয়ের জন্য নতুন প্রকল্প নিয়ে এল ভারত সরকার। আম জনতার জন্য বিশেষ সরকারি লগ্নি ব্যবস্থা। এই নয়া প্রকল্পে ২১ হাজার টাকা লগ্নি করলেই, একবছর পর পাবেন দেড় লক্ষ টাকা রিটার্ন’— দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ সংসদে বসে এমনই ঘোষণা করছেন। এহেন ভিডিয়ো ক্লিপিং সরাসরি আপনার মোবাইলে আসতেই পারে। ডিজিটাল দুনিয়ায় ট্রেন্ডিংয়ের দৌড়ে নামতে গিয়ে যাচাই না করেই হু-হু করে শেয়ার হচ্ছে এই ভিডিয়ো। আর এতেই লুকিয়ে প্রতারণার ফাঁদ। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই’এর সাহায্য নিয়ে অর্থমন্ত্রীর মুখ ও গলার স্বর ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে ভুয়ো ভিডিয়ো। এআই ভিডিয়োর মাধ্যমেই প্রচার করা হচ্ছে ভুয়ো সরকারি প্রকল্প। সেই ভিডিয়ো ও লগ্নি করার জন্য বিশেষ অ্যাপের লিংক আসছে আম জনতার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে। সেই লিংকে ক্লিক করলেই নিমেষে গায়েব হয়ে যেতে পারে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত পুঁজি। পাকিস্তান থেকে আসছে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজগুলি। প্রাথমিক তদন্তেই এমনটাই জানিয়েছেন, ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (আইফোরসি)।
সম্প্রতি সাইবার অপরাধের নতুন ট্রেন্ড নিয়ে নয়া সতর্কবার্তা দিয়েছে আইফোরসি। ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম থ্রেট অ্যানালিটিক্সের তদন্তে বেশ কিছু নয়া প্রতারণার ধরণ সামনে এসেছে। তাতে দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন ভুয়ো সরকারি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে প্রতারণার জাল বিছিয়েছে প্রতারকরা। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ও গলার স্বর ব্যবহার করেই এই কাণ্ড ঘটাচ্ছে তাঁরা। কিন্তু, গোটা বিষয়ের নেপথ্যে বড়সড় চক্র কাজ করছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে খবর, ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) আধিকারিকরা এই প্রতারণার সূত্র খুঁজে বের করেছেন। শীর্ষস্তরের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে যে সমস্ত মেসেজ আম জনতার কাছে গিয়েছে, সেই নম্বরগুলি যাচাই করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে আইবি। সবকটি নম্বরই পাকিস্তানের। সেখান থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্যে আসছে মেসেজ। ভুয়ো ভিডিয়োর সঙ্গে থাকা লিংকও পাকিস্তানের আইপি অ্যাড্রেসের সঙ্গে যুক্ত।
লিংকে ক্লিক করলেই মোবাইল ফোনের কন্ট্রোল চলে যাচ্ছে প্রতারকদের হাতে। ডিজিটাল পেমেন্টের যুগে নিমেষে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি করে দিচ্ছে প্রতারকরা। সেই টাকা যাচ্ছে কোথায়? তদন্তকারীরা বলছেন, এদেশের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতারণার টাকা যাচ্ছে না। বরং প্রতারণার টাকা ঢুকছে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। সেই সমস্ত অ্যাকাউন্টের সঙ্গে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলির লেনদেনের সূত্র মিলেছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেনের ইতিহাস ট্র্যাক করে এমনই তথ্য পেয়েছে আইবি।
আইফোরসি’র সতর্কবার্তা, শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপে আসা ভিডিয়ো দেখে সরকারি প্রকল্পের ঘোষণা বিশ্বাস করবেন না। সেটি সরকারি কোনো পোর্টাল বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির অফিস থেকে যাচাই করুন। কোনো প্রকল্পের খবর দেখে, যাচাই না করে বিনিয়োগ করবেন না।



