নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: লন্ডনের বাসিন্দা ফেসবুক বন্ধুর কাছ থেকে জন্মদিনে আকর্ষণীয় গিফ্ট সংগ্রহ করতে গিয়ে ৪লক্ষ ১৮হাজার টাকা খোয়ালেন তমলুক থানার খারুই গ্রামের এক যুবক। এই যুবক বর্তমানে কর্মসূত্রে কোলাঘাটের সাহাপুর গ্রামে থাকেন। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। ২৭জুলাই সাইবার প্রতারণার ঘটনায় কোলাঘাট থানায় এফআইআর করেছেন ওই যুবক। গোটা ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। অভিযোগকারী বলেন, আপত্তি সত্ত্বেও জন্মদিনে গিফ্ট পাঠানোর নামে এই প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। খোয়া যাওয়া টাকা ফেরতের আর্জি জানিয়ে পুলিসের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছি। জানা গিয়েছে, গত ২৫জুলাই অভিযোগকারী যুবকের জন্মদিন ছিল। কখনও সাক্ষাৎ না হলেও ডঃ মণীশ পাল নামে একজনের সঙ্গে ওই যুবকের ফেসবুকে বন্ধুত্ব ছিল। মণীশ লন্ডনে থাকে বলে জানিয়েছিল। ২৫তারিখ খারুইয়ের ওই যুবকের জন্মদিন উপলক্ষ্যে মণীশ দামী গিফ্ট পাঠানোর কথা ফেসবুকে জানায়। ওই যুবকের দাবি, তিনি গিফ্ট পাঠানোর বিষয়ে আপত্তি করেন। কিন্তু, আপত্তি সত্ত্বেও লন্ডনের ওই ‘ফেসবুক বন্ধু’ একপ্রকার জোর করেই গিফ্ট পাঠায়। জানা গিয়েছে, ২৪জুলাই ওই গিফ্ট দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছে যাবে বলে ওই যুবককে জানানো হয়েছিল। তারপরই শুরু হয় সাইবার জালিয়াতির আসল খেলা। গিফ্ট বক্সে অতিরিক্ত সোনা থাকায় সেটি কাস্টমস আটকেছে বলে তমলুকের ওই যুবককে ফোন করা হয়। কাস্টমস থেকে প্যাকেটটি না ছাড়ালে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে ওই ফেসবুক বন্ধু ভয় দেখায়। ভয় দেখিয়ে ওই ফেসবুক বন্ধু প্রথমে ১০হাজার টাকা পাঠাতে বলে। তারপর নারকোটিক বিভাগ ও দিল্লি পুলিসের ভয় দেখিয়ে ধারাবাহিকভাবে ব্ল্যাকমেল চলে। বাধ্য হয়ে ওই যুবক দু’টি ধাপে আরও ৫৬হাজার এবং সাড়ে তিন লক্ষ টাকা দিয়ে দেন। এভাবে মোট ৪লক্ষ ১৮হাজার টাকা দেওয়ার পর তাঁর উপলব্ধি হয়, তিনি সাইবার প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছেন। লন্ডন নিবাসী ওই বন্ধু আসলে একজন প্রতারক ছাড়া কেউ নয়। এরপরই কোলাঘাট থানায় গিয়ে এফআইআর করেছেন। অচেনা ব্যক্তিকে ফেসবুক তালিকায় রাখলে বিপদ হতে পারে। পুলিস বার বার বন্ধু তালিকায় অচেনা এবং অজানা ব্যক্তিদের যুক্ত না করার পরামর্শ দিচ্ছে। একইসঙ্গে অচেনা লিঙ্ক না খোলারও পরামর্শ দিচ্ছে পুলিস।



