শুভ্র চট্টেপাধ্যায়, কলকাতা: ডালহৌসি পাড়ায় অফিস খুলে বিনিয়োগের টোপ দিয়ে ১৫০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। তাদের টোপ গিলে সর্বস্বান্ত হয়েছেন বহু সাধারণ মানুষ। শেয়ার ট্রেডিং সহ বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগের লোভ দেখানো হয়েছিল তাঁদের। অভিযোগ হওয়ার পরই ঝাঁপ গুটিয়েছে ওই কোম্পানি। বিষয়টি নিয়ে লালবাজার তদন্ত শুরু করলেও, চিটফান্ডের মামলা হওয়ায় তদন্তভার তাদের হাতে দেওয়ার জন্য চিঠি পাঠিয়েছে ডিরেক্টরেট অব ইকনমিক অফেন্সেস (ডিইও)।
পুলিশ সূত্রে খবর,২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গভর্নমেন্ট প্লেস ইস্টের ঠিকানা দেখিয়ে ওই কোম্পানিটি খোলা হয়। আরওসির তথ্য অনুযায়ী, এই কোম্পানির ডিরেক্টর ছিলেন দুজন। কোম্পানির তরফে বলা হয় তাদের নাম শেয়ার বাজারে লিস্টেড রয়েছে। এখান থেকে শেয়ারে বিনিয়োগ করলে ভালো টাকার রিটার্ন মিলবে। কোন কোন শেয়ারে টাকা লগ্নি করা লাভজনক, তা তারাই ঠিক করে দেবে। তাদের নির্দিষ্ট করা অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাবেন বিনিয়োগকারীরা। সেই টাকা বিভিন্ন শেয়ারে লগ্নির ব্যবস্থা হবে। প্রতিদিন ভালো রিটার্ন মিলবে। একইসঙ্গে অন্য কোম্পানিতে টাকা রাখার প্রলোভনও দেখানো হয়। টাকা তোলার জন্য এজেন্টও রাখা হয়। এই ফাঁদে পড়ে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি সহ বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করেন। প্রথমে ভালো পরিমাণ টাকা রিটার্ন দেওয়া হয়। লোভে পড়ে লগ্নিকারীদের একটা বড় অংশ বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে বসেন। এরপর থেকেই সমস্যা শুরু হয়। বিনিয়োগকারীরা টাকা ফেরত চাইলে, তা দেওয়া হচ্ছিল না বলে অভিযোগ। যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিনিয়োগকারীরা অফিসে এলেও দেখা পাননি ডিরেক্টরদের। টাকা রেখে প্রতারিত আমানতকারীরা ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে হেয়ার স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৫০ কোটি টাকা তুলেছে এই সংস্থা। তদন্তভার নেয় লালবাজার। এরপরই ঝাঁপ গোটায় ওই কোম্পানি। খোঁজ মেলেনি কোম্পানির ডিরেক্টরদের।
এই প্রতারণার বিষয়টি কয়েকদিন আগে জানতে পারেন ডিইওর অফিসাররা। তাঁরা খোঁজখবর করতে গিয়ে দেখেন, চিটফান্ডের কায়দায় এই টাকা তোলা হয়েছে। অর্থাৎ চিটফান্ড কোম্পানির ক্ষেত্রে যে পিরামিড স্ট্রাকচার থাকে এখানেও তাই ছিল। প্রাথমিকভাবে তাঁরা জেনেছেন, আমানতকারীদের যে কোম্পানির অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিতে বলা হয়েছিল, সেটি শেয়ার বাজারে লিস্টেড ছিল না। আমজনতার টাকা কোম্পানি নিজের নামে বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করেছে। একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা পাচার হয়ে গিয়েছে। কোম্পানির ডিরেক্টরদের বাড়িতেও লগ্নিকারীরা যে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, তাও জানতে পারেন ডিইও’র আধিকারিকরা। সব তথ্য হাতে আসার পরই তদন্তভার চেয়ে ডিইও’র তরফে লালবাজারকে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।