Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাঁশকুড়ায় ২০ লক্ষ টাকা লোন পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা, অভিযুক্ত প্রাক্তন বাম যুব নেতা

Fraud in the name of providing a loan of 20 lakh rupees in Panshkura

পাঁশকুড়ায় ২০ লক্ষ টাকা লোন পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা, অভিযুক্ত প্রাক্তন বাম যুব নেতা
  • ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: স্বামী বিবেকানন্দ স্বনির্ভর কর্মসংস্থান ঋণদান প্রকল্পে ভর্তুকি সহ ২০লক্ষ টাকা লোন পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠল প্রাক্তন ডিওয়াইএফ নেতার বিরুদ্ধে। পাঁশকুড়ার বিডিওকে ঘুষ দেওয়ার নামে ওই টাকা তোলা হয়েছিল। ১লক্ষ ৩১হাজার টাকা দেওয়ার পর আরও এক লক্ষ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ার পুলিশের দ্বারস্থ হন পাঁশকুড়ার আটাং গ্রামের তরুণকুমার সামন্ত। কিন্তু, পুলিশ অভিযোগ না নেওয়ায় তিনি পূর্ব মেদিনীপুর সিজেএম কোর্টের শরণাপন্ন হন। আদালতের নির্দেশে গত ২৯জানুয়ারি প্রাক্তন ডিওয়াইএফ নেতা অনন্ত পড়িয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পাঁশকুড়া থানার পুলিশ। টাকা নেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেছেন সিপিএমের যুব সংগঠনের প্রাক্তন নেতা।

Advertisement

জানা গিয়েছে, পাঁশকুড়া ব্লকে স্বামী বিবেকানন্দ স্বনির্ভর কর্মসংস্থান প্রকল্পে ভর্তুকি সহ লোন ঩দেওয়ার নামে কয়েক বছর ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করতেন অনন্ত। তাঁর বাড়ি পাঁশকুড়া ব্লকের গোঁসাইবেড় সংলগ্ন গোপীমোহনপুর গ্রামে। পাঁশকুড়া স্টেশন বাজারে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে বসে তিনি ওই কাজ করতেন। পাঁশকুড়ার আটাং গ্রামের তরুণকুমার সামন্ত আলুগ্রাম বাজারে একটি স্টুডিও চালান। তিনি নিজের দোকান বড় করার জন্য ভর্তুকিযুক্ত ওই লোনের জন্য আবেদন করেন। বিডিও অফিসে এই আবেদন করতে হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতে সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন অনন্ত। সেখানেই উভয়ের মধ্যে আলাপ হয়।

তরুণবাবুর অভিযোগ,  ভর্তুকি সমেত ২০লক্ষ টাকা লোনের টোপ দিয়েছিলেন অনন্ত। ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকেই যাবতীয় কাগজপত্র রেডি করে ব্যাঙ্কে পাঠানো হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তারজন্য বিডিওকে এক লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হবে বলে জানিয়েছিলেন। দাবিমতো তরুণবাবু ঋণ পেতে ২০২৩সাল থেকে মোট ১লক্ষ ৩১হাজার টাকা দেন। কিন্তু, ঋণ মঞ্জুর হয়নি। তরুণবাবু খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আরও কয়েকজনের সঙ্গে একই ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ রয়েছে ওই প্রাক্তন ডিওয়াইএফ নেতার বিরুদ্ধে। এরপরই তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন।

জানা গিয়েছে, একসময় সিপিএমের যুব সংগঠনের দাপুটে নেতা ছিলেন অনন্ত। বাম জমানাতেই স্বামী বিবেকানন্দ স্বনির্ভর কর্মসংস্থান ঋণদান প্রকল্পে ভলান্টিয়ার হিসেবে নিযুক্ত হন। এখন অবশ্য সেই দায়িত্বে নেই। ভর্তুকির টোপ দিয়ে টাকা হাতানোর অভিযোগ ঘিরে হইচই পড়ে গিয়েছে। অভিযোগকারী তরুণবাবু বলেন, আমাকে ফ্লেক্স তৈরির একটি প্রজেক্টের জন্য উনি প্ল্যান দিয়েছিলেন। তারজন্য কত টাকা প্রয়োজন সেসব নিয়ে একটি স্কিম তৈরি করে ২০লক্ষ টাকা লোন পা‌ইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়েছিলেন। এজন্য শুরুতে এক লক্ষ টাকা দাবি করেন। সেই টাকা বিডিওকে দিতে হবে বলে জানিয়েছিলেন। আমি সেই টাকা দিই। তারপর আরও ৩১হাজার টাকা দিই। কিন্তু, লোন মঞ্জুর হওয়ার জন্য আরও এক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। সেই টাকা না দেওয়ায় আমাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। আমার সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বুঝতে পেরে আমি কোর্টের দ্বারস্থ হই। শেষমেশ তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে।

অভিযুক্ত অনন্ত বলেন, সাবসিডি লোনের জন্য আবেদনকারীকে টাকা দিতে হয়। সেইমতো আমি টাকা নিয়েছিলাম। যদিও তরুণবাবুর ঋণ মঞ্জুর হয়নি। পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি সুজিত রায় বলেন, অভিযুক্ত একসময় সিপিএমের যুব সংগঠনের দাপুটে নেতা ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ঋণ দেওয়ার নামে টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ