শিবাজী চক্রবর্তী: কয়েক ঘণ্টা আগেও শহরের রং ছিল হলুদ-সবুজ। মিউজিয়াম অব আর্ট, ইন্ডিপেন্ডেন্স হল, ফিলাডেলফিয়া ম্যাজিক গার্ডেন যেন এক টুকরো সর্ষে খেত। স্পোর্টস পাব, ছিমছাম রাজপথে ব্রাজিল সমর্থকদের স্রোত। হাইতিকে উড়িয়ে নাচতে নাচতে বিদায় নিয়েছেন সেলেকাওরা। তারপর ফ্রান্সের ঘন নীল জার্সিতে মুখ ঢেকেছে ফিলাডেলফিয়া। সোমবার রাত আড়াইটায় দিদিয়ের দেশঁ ব্রিগেডের সামনে ইরাক। ফুটবল মাঠে ফরাসি বিপ্লবের প্রহর গোনা শুরু।
প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে বশ মানিয়েছে ফ্রান্স। জোড়া গোলে ফরাসি সম্রাট কিলিয়ান এমবাপে। তৃতীয় বিশ্বকাপেই মাইলস্টোনের সামনে মেগাস্টার। ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপে তাঁর লক্ষ্যভেদের সংখ্যা ১৪। সামনে শুধুই ১৬ গোলের মালিক লায়োনেল মেসি ও মিরোস্লাভ ক্লোজে। ধরাছোঁয়ার বাইরে যাওয়ার সুযোগ কিলিয়ানের সামনে। ইরাক রক্ষণ তাঁকে কতক্ষণ রুখতে পারে সেটাই দেখার। এমনিতে ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে দল সাজান দেশঁ। অনেকটা পিরামিডের মতো। চূড়ায় বর্শার ফলার মতো ঝকঝকে এমবাপে। দুর্বার গতির ফরাসি শিবিরের সেনাপতি তিনি। এমবাপেকে বল জোগানোর দায়িত্বে সোনায় সাজানো মাঝমাঠ। মিশেল ওলিসে, র্যাবিয়ট, ডিজায়ার ডুয়ে— বলকে কথা বলাতে পারেন। চোখ বাঁধা অবস্থাতেও নির্ভুল পাস ছুটে যায় এমবাপের জন্য। সেনেগাল ম্যাচের কথাই ধরুন। একটা সময় পর্যন্ত সমানে সমানে লড়াই করেছিল আফ্রিকার দেশ। কিন্তু ওলিসের থ্রু পাসেই হাট করে খুলে যায় গোলের দরজা। এমবাপের মতো শিকারী জাল কাঁপানোর অপেক্ষাতেই থাকেন। দেশঁর মিডল করিডর বাকিদের ঈর্ষার কারণ। ফ্রান্সের বিখ্যাত সুগন্ধীর মতো যার কদর বিশ্বজোড়া। ডাগ-আউটে কোচের নির্দেশের অপেক্ষায় কন্তে, বার্কোলার মতো ফুটবলার। নিজেদের ইচ্ছামতো গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে ফ্রান্স। বিশেষজ্ঞদের নোটবুকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নের তালিকায় উপরের দিকেই রয়েছে দেশঁ ব্রিগেডের নাম। ইরাকের বিরুদ্ধে শুধু জেতা নয়, গোলপার্থক্যেও নজর থাকবে দেশঁর। শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হালান্ডের নরওয়ে। তার আগেই নক-আউটের টিকিট পকেটে পুরতে চান অভিজ্ঞ ফরাসি কোচ।
প্রথম ম্যাচে নরওয়ের বিরুদ্ধে ১-৪ গোলে বশ মেনেছে ইরাক। হালান্ডদের সামলাতেই জেরবার তাদের রক্ষণ। সেখানে ফ্রান্স অনেকটাই গোছানো। অস্ট্রেলিয়ান কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড ইরাকের দায়িত্বে। রক্ষণ জমাট করেই দল সাজাবেন তিনি। এককথায় জমি আঁকড়ে লড়ে যাওয়ার লো ব্লক নীতি। পায়ের জঙ্গলে ফরাসিদের বিভ্রান্ত করাই লক্ষ্য। কিন্তু শুধু ঘর বাঁচিয়ে দেশঁর হেভিওয়েট স্কোয়াডকে আটকানো মুশকিল।