বোস্টন: গাছগাছালিতে ঘেরা বেন্টলি ইউনিভার্সিটি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে রবিবার সকাল থেকেই ফ্রান্স সমর্থকদের ভিড় উপচে পড়েছিল। গরম উপেক্ষা করে পতাকা, প্ল্যাকার্ড হাতে তাঁদের চোখ খুঁজছিল একজনকেই। তিনি আর কেউ নন, কিলিয়ান এমবাপে। গত দু’টি বিশ্বকাপে তিনিই তো ফ্রান্সের মহানায়ক। এবারও শুধু সমর্থকদের নয়, কোচ দিদিয়ের দেশঁরও শেষ ভরসা তিনি। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর মাঠে এলেন এমবাপে। গায়ে গায়ে ওসুমানে ডেম্বেলে ও জুলস কৌন্দে। দু’জনের সঙ্গেই খুনসুটি করতে দেখা গেল তাঁকে। সঙ্গেসঙ্গে গ্যালারির একটি অংশ থেকে এমবাপের জয়ধ্বনি। সেদিকে তাকিয়ে হাত তুলে আশ্বস্ত করলেন তিনি। ভাবখানা এমন, ‘ম্যায় হুঁ না...’। তারপরেই চলল নিবিড় অনুশীলন।
ভারতীয় সময় রাত সাড়ে বারোটায় ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ সেনেগাল। গ্রুপ-আই’এর এই ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দুতেই অবশ্যই এমবাপে। তবে আফ্রিকার দেশটির বিরুদ্ধে অতীত পরিসংখ্যান মোটেই ভালো নয় ফ্রান্সের। ২০০২ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার সিওলে সেনেগালের কাছে ০-১ ব্যবধানে হার মানতে হয় থিয়েরি অঁরিদের। ২৪ বছর পর তার মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে দেশঁ-ব্রিগেডের কাছে। আর সেই লক্ষ্যেই গা ঘামিয়ে নিলেন চৌমেনি-কোলো মুয়ানিরা।
জাতীয় দলের জার্সিতে ৫৬ গোল করে আমেরিকায় পা রেখেছেন এমবাপে। আর একটি লক্ষ্যভেদেই তিনি ধরে ফেলবেন অলিভার জিরুকে। তাই চকিতে গতি বাড়ানোর পাশাপাশি শ্যুটিং প্র্যাকটিসও সেরে নিলেন তিনি। টিমবাসে ওঠার সময় তাঁর সঙ্গে আলাদা করে কথা বললেন কোচ দেশঁ। তিনি জানেন, এমবাপে-ডেম্বেলে জুটি ক্লিক করে গেলে সেনেগালের প্রতিরোধ সহজেই টপকানো যাবে। ফরাসি কোচকে স্বস্তি দিচ্ছেন উইলিয়াম সালিবা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে তিনি চোট পাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল ফরাসি শিবিরে। তবে দলের সঙ্গে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরেছেন সালিবা। পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পাওয়া জুলস কৌন্দেও অনুশীলনে ফিরেছেন। তাই পূর্ণশক্তি নিয়েই প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবেন কোচ দেশঁ।
অন্যদিকে, এবারও অঘটনের আশায় তাল ঠুকছে সেনেগাল। বিশ্বকাপে প্রথমবার ফ্রান্সকে হারানোর ম্যাচে রিজার্ভ বেঞ্চে ছিলেন পাপে থিয়াও। এবার তিনি দলের কোচ। সাফল্যের ধারা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ তাঁর সামনে। তাছাড়া বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে অপরাজেয় তকমা নিয়ে মার্কিন মুলুকে এসেছে ‘লায়ন্স অব ট্রাইকালার’। দলের তারকা স্ট্রাইকার সাদিও মানেও রয়েছেন ছন্দে। তবে একাধিক ফুটবলারের চোট চিন্তায় রেখেছে কোচ থিয়াওকে।