নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সামান্য পেন কাড়াকাড়ি নিয়ে দুই পড়ুয়ার মধ্যে গণ্ডগোল। তার জেরে শিক্ষিকার কড়া ‘শাস্তি’র কোপে পড়ে চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া। অভিযোগ, ১০ বছরের ছাত্রীকে ছাতা দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন স্কুলের দুই শিক্ষিকা। পরিবারের দাবি, চোখ, মুখ, কান, হাঁটু সহ শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে পড়ুয়ার। জ্বর ও ব্যথায় কাহিল অবস্থা নাবালিকার। মানিকতলার বাণীপীঠ গার্লস হাইস্কুলে ঘটনাটি ঘটেছে। ইতিমধ্যেই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ও ক্লাস টিচারের বিরুদ্ধে মানিকতলা থানার দ্বারস্থ হয়েছেন নির্যাতিতা ছাত্রীর মা। তিনি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। তার ভিত্তিতে গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিস।
আক্রান্ত ছাত্রীর মায়ের দাবি, ১৬ জুলাই ঘটনাটি ঘটে। মেয়ে মা কে জানিয়েছে, ওই দিন স্কুলে পাশে বসা এক ছাত্রীর সঙ্গে পেন নিয়ে তার ঝামেলা হয়েছিল। দুই ছাত্রীর এই গণ্ডগোল কোনওভাবে দেখে ফেলেন ক্লাস টিচার। এরপরেই ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষিকার কাছে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি অভিভাবকদের। সেখানেই ছাতা দিয়ে নাবালিকাকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ওইদিনই দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ আক্রান্ত ছাত্রীর মাকে ফোন করেন প্রধান শিক্ষিকা। তাঁকে স্কুলে যেতে বলা হয়। ছাত্রীর মা বলেন, ‘সেখানেই আমাকে বলা হয়, মেয়ে স্কুলে গণ্ডগোল করেছে। তার জন্য আগামী সাত দিন ওকে স্কুলে পাঠাবেন না। এটাই ওর শাস্তি। কিন্তু, সেকথা সরকারিভাবে স্কুলের ডায়েরিতে কিছু লিখে দেওয়া হয়নি।’ যদি সত্যি মেয়ে কোনও দোষ করে থাকে, নিশ্চয়ই শিক্ষিকারা শাসন করবেন, তাহলে সরকারিভাবে ডায়েরিতে লিখে মেয়েকে সাসপেন্ড করা হল না কেন? প্রশ্ন তুলেছেন নির্যাতিতার মা।
সেদিন প্রধান শিক্ষিকার ‘নিদান’ শোনার পর এবং মেয়ের অবস্থা দেখে চোখ কপালে ওঠে মায়ের। মেয়ের কানে, হাঁটুতে কালশিটে দাগ। গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে। দ্রুত স্কুল থেকেই স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে মেয়েকে নিয়ে যান অভিযোগকারিণী। অবস্থা খারাপ হওয়ায় সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাথা, কানের বেশ কিছু পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। তার রিপোর্ট আসার পর চিকিৎসকের দাবি, শারীরিক কোনও ক্ষতি হয়নি। বেশ কিছু ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তার। নির্যাতিতার মা বলেন, ‘শিক্ষিকারা নিশ্চয়ই শাসন করবেন, শাস্তি দেবেন। তাতে তো আমার মেয়েই ভুলটা থেকে শিখবে। কিন্তু, তা বলে শাস্তি দেওয়ার মাধ্যম ছাতা কেন হবে?’ এ প্রসঙ্গে বক্তব্য নেওয়ার জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে ফোন করা হয়। তিনি বলেন, ‘এখন আমি কোনও কথা বলব না।’