Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

খসড়া তালিকায় ‘চতুর্থ’ ভাইয়ের নাম! বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের অভিযোগ আমডাঙায়

২০২৫ সালের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হতেই বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এল আমডাঙায়। মরিচা পঞ্চায়েতের ভালুকা গ্রামের একটি ঘটনায় ফের বিতর্ক ছড়িয়েছে।

খসড়া তালিকায় ‘চতুর্থ’ ভাইয়ের নাম! বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের অভিযোগ আমডাঙায়
  • ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ২০২৫ সালের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হতেই বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এল আমডাঙায়। মরিচা পঞ্চায়েতের ভালুকা গ্রামের একটি ঘটনায় ফের বিতর্ক ছড়িয়েছে। গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বাস পরিবারে তিন ভাই। সেখানে আচমকাই ভোটার তালিকায় উঠে এসেছে ‘চতুর্থ ভাই’-এর নাম। নতুন নাম ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিষয়টি নিয়েই অভিযোগ জমা পড়েছে মহকুমা প্রশাসনের কাছে। জানা গিয়েছে, আমডাঙার ভালুকা গ্রামের বাসিন্দা নরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস। তিনি ও তাঁর স্ত্রী বকুল বিশ্বাস মারা গিয়েছেন। তাঁদের তিন ছেলে নীহার বিশ্বাস, গোবিন্দ বিশ্বাস ও ননী বিশ্বাস। কয়েক বছর আগে নীহারবাবু মারা গিয়েছেন। বর্তমানে গোবিন্দ, ননী ও নীহারের স্ত্রী বিমলা বিশ্বাস বাবার পরিচয় দিয়ে ২০২৫ সালের এসআইআরের ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করেছেন। খসড়া তালিকা প্রকাশ হতেই কার্যত মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে বিশ্বাস পরিবারে। দেখেন তিন ছেলে ছাড়াও চতুর্থ ভাইয়ের আবির্ভাব হয়েছে। যাঁর নাম ভোলানাথ বিশ্বাস। খসড়া তালিকায় ভোলানাথ বিশ্বাসের বাবা নরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস ও মা হিসাবে দেখানো হয়েছে বকুল বিশ্বাসকে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই ব্যক্তি আদতে বাংলাদেশি নাগরিক। অবৈধভাবে চোরাপথে বাংলাদেশ থেকে এ রাজ্যে আসেন। বর্ধমান, দুর্গাপুর এবং কর্ণাটক হয়ে আমডাঙার ভালুকা গ্রামে এসে ভাড়াবাড়িতে আশ্রয় নেন। 

Advertisement

অভিযুক্ত ভোলানাথবাবু নরেন্দ্রনাথ বিশ্বাসকে নিজের বাবা ও বকুল বিশ্বাসকে মা হিসেবে দেখিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। এদিকে ননী ও গোবিন্দ বিশ্বাস বলেন, আমরা তিন ভাই রয়েছি। তার মধ্যে বড়ো দাদা মারা গিয়েছেন। বউদি আছেন। তিনভাইয়ের পরেও চতুর্থ ভাই হিসাবে খসড়া তালিকায় ভোলানাথ বিশ্বাসের নাম আমরা দেখতে পাই। ওই ব্যক্তিকে আমরা চিনিও না। উনি বাংলাদেশ থেকে এসে এখানে আছেন। এটা কীভাবে সম্ভব বুঝতে পারলাম না। নির্বাচন কমিশনকে আমরা অভিযোগ জানিয়েছি। ওর নাম দ্রুত কাটানোর জন্য অন্য একটি ফর্ম পূরণ করে আমরা জমাও দিয়ে দিয়েছি। এদিকে মৃত নীহারের স্ত্রী বিমলা বিশ্বাস বলেন, পারিবারিক সম্পত্তি হাতানোর উদ্দেশ্যেই ভুয়ো পরিচয়ের ছক কষা হয়েছে। জানতে চাইছি এই চক্র কিভাবে কাজ করল? সত্যি এসআইআর এ কতটা স্বচ্ছতা হচ্ছে বোঝা যাচ্ছে। এনিয়ে অভিযুক্ত ভোলানাথ বিশ্বাস বলেন, সঠিক নিয়ম মেনেই জমা দিয়েছি। এরপর তাঁর দাবি, একটা সময় আমি বাংলাদেশে ছিলাম। ঘোজাডাঙা দিয়ে ভারতে আসি। তারপরে বর্ধমান, কর্ণাটক হয়ে আমডাঙাতে আছি। কবে থেকে ভারতে ভোট দিচ্ছি বলতে পারছি না। এনিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা নির্বাচন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বিষয়টি জানা নেই, শুনলাম। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ