Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলা পরিষদের চার কর্মাধ্যক্ষই শিক্ষকতার বেতন পান নিয়মিত! ডিএমের কাছে অভিযোগ দায়ের

জেলা পরিষদের চার কর্মাধ্যক্ষই শিক্ষকতার বেতন পান নিয়মিত! ডিএমের কাছে অভিযোগ দায়ের
  • ২৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ। সেই সঙ্গে স্কুলের শিক্ষকও। এক জায়গা থেকে পাচ্ছেন সাম্মানিক ভাতা। অন্য জায়গা থেকে মাস মাইনে। এমন চারজন কর্মাধ্যক্ষের নামে জেলাশাসকের দপ্তরে অভিযোগ জমা পড়তেই গোটা জেলায় তোলপাড়। অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি দু’টি সরকারি পদে থাকলে দু’জায়গা থেকে বেতন নেওয়া যায় না। যে কোনও এক জায়গা থেকেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বেতন নিতে হয়। এক্ষেত্রে ওই চার কর্মাধ্যক্ষ নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে দিব্যি দু’জায়গা থেকে বেতন নিয়ে চলেছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের আর্জি জানানো হয়েছে ওই অভিযোগ পত্রে। নদীয়ার জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ বলেন, ‘অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে।’

Advertisement

জানা গিয়েছে, চলতি মাসের ১৮ তারিখ ধুবুলিয়ার বাসিন্দা চিরঞ্জিত দাস জেলাশাসকের কাছে একটি চিঠি দেন। সেটি জেলাশাসকের দপ্তরের তরফ থেকে রিসিভ করা হয়। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৫২ জন সদস্য বিভিন্ন দল থেকে জেলা পরিষদের আসনে নির্বাচিত হন। বর্তমানে জেলা পরিষদের সভাধিপতি, সহকারী সভাধিপতি ও কর্মাধ্যক্ষরা ফুল টাইম দায়িত্ব পালনের অধিকারী। এর জন্য প্রতি মাসে তাঁদের সম্মানিক ভাতা দেওয়া হয় রাজ্য সরকারের তরফে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এইরকম কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি সরকারি চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকলে তিনি দু’টি জায়গাতেই একসঙ্গে দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। বেতনও নিতে হবে যে কোনও একটি জায়গা থেকে। চিরঞ্জিত দাবি করেন, জেলা পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদকালে সরকারি চাকরি বা স্কুলের চাকরি থেকে ছুটি নেওয়া উচিত এবং বেতনও গ্রহণ করা উচিত নয়। যাঁরা এমন পদ অধিকার করে রয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে জনমানসে ভুল বার্তা যাবে।
চিরঞ্জিতের অভিযোগ ঘিরে তৃণমূলের অন্দরেও তুমুল আলোড়ন পড়েছে। শুরু হয়েছে চাপানউতোর। কেননা, জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ কার্তিক মণ্ডল, বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ শম্পা ঘোষ বিশ্বাস, বিদ্যুৎ ও ক্ষুদ্র শিল্পের কর্মাধ্যক্ষ বিধান বিশ্বাস, কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সিরাজ শেখ সকলেই জেলার কোনও না কোনও স্কুলের শিক্ষক। তাঁরা কি সত্যিই দু’জায়গা থেকে বেতন নিচ্ছেন? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। 
যদিও শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ কার্তিক মণ্ডল বলেন, ‘জেলা পরিষদ থেকে যে বেতন দেওয়া হয়, তা নিই না। একটা জায়গা থেকেই বেতন নিই।‌ স্কুল থেকে যে বেতন দেওয়া হয়, সেটাই নিই।  বিদ্যুৎ ও ক্ষুদ্র শিল্পের কর্মাধ্যক্ষ বিধান বিশ্বাস বলেন, 
‘জেলাশাসকের কাছে আমরা চিঠি দিয়েছি। তাতে জানিয়েছি, জেলা পরিষদের বেতন আমরা নেব না। কোনওদিন জেলা পরিষদ থেকে টাকা নিইনি। এটা শুরু থেকেই মেনে চলি।’ কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সিরাজ শেখ বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী যে কোনও এক জায়গা থেকে বেতন নেওয়া যায়।‌ সমস্ত দপ্তরে আমাদের চিঠি দেওয়া রয়েছে। নিয়ম মেনেই একটা জায়গা থেকেই বেতন নেওয়া হয়।‌’ বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ শম্পা ঘোষ বিশ্বাস বলেন, ‘আমি পার্শ্বশিক্ষক। আমাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটে না। যাঁরা হোলটাইমার তাঁদের এক জায়গা থেকেই বেতন নিতে হয়।’‌ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ