নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আগুন লাগার পর কেটেছে চারদিন। এখনো উদ্ধার হয়ে চলেছে আনন্দপুর লাগোয়া নাজিরাবাদের জতুগৃহ জোড়া গোডাউনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়া কর্মীদের দেহাংশ। বুধবার পর্যন্ত ২১ জনের হাড়গোড় উদ্ধার হয়েছিল। বৃহস্পতিবার আরও চারজনের দেহাবশিষ্ট পাওয়া গেল পোড়া গোডাউনের ভিতর থেকেই। এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৫। নিখোঁজের সংখ্যা নতুন করে আর বাড়েনি। এদিন ওই দুর্ঘটনাস্থলে দেখা গেল, আগুনে বেঁকে যাওয়া অ্যাসবেস্টাস, লোহার কাঠামো ভাঙার কাজ শুরু করেছে কলকাতা পুরসভার ডেমোলিশন টিম। ক্রেনে উঠে ডেকরেটার্স সংস্থার টিনের চাল কেটে আলাদা করা হয়। সরানো হয় বিভিন্ন লোহার রড ও অন্যান্য কাঠামো। কর্মীরা গ্যাস কাটার, হাতুড়ি প্রভৃতি সরঞ্জাম ব্যবহার করে এই কাজ করেন। এখনও ওই ধ্বংসস্তূপের নীচে দেহ থাকতে পারে বলে সন্দেহ পুলিশের। তাই এদিন ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলল জোর কদমে। ধ্বংসস্তূপের ভিতরে ইতিউতি ছড়িয়ে রয়েছে হাড়গোড়। সেসব উদ্ধার করতেই এখন রীতিমত কাল ঘাম ছুটছে পুলিশের। আগুনের জন্য যেভাবে কাঠামোগুলি ভেঙে পড়ে রয়েছে, সেগুলি সরাতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ, দমকল ও ডেমোশিন টিম ছাড়া এখন আর কাউকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এদিন ওই ঘটনাস্থলের ১০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ (বিএনএস) ধারা জারি করেছিলেন বারুইপুর মহকুমার এক এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। বিরোধী দলনেতার নেতৃত্বে সেখানে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সকালে সেখানে গিয়েছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায়। আজ, শুক্রবার পর্যন্ত ঘটনাস্থলে এই ১৬৩ ধারা লাগু থাকার কথা সেই অর্ডারে উল্লেখ করা হয়েছে।



