Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জমিজটে থমকে জাতীয় সড়কে চার লেনের কাজ

কেন্দ্রীয় সড়ক মন্ত্রীর ঘোষণা ছিল, বীরভূমের বুক চিরে যাবে ঝকঝকে ফোরলেন জাতীয় সড়ক। কিন্তু, বাস্তবের মাটিতে সেই ঘোষণা এখন বিশবাঁও জলে।

জমিজটে থমকে জাতীয় সড়কে চার লেনের কাজ
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:০২

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: কেন্দ্রীয় সড়ক মন্ত্রীর ঘোষণা ছিল, বীরভূমের বুক চিরে যাবে ঝকঝকে ফোরলেন জাতীয় সড়ক। কিন্তু, বাস্তবের মাটিতে সেই ঘোষণা এখন বিশবাঁও জলে। গত মঙ্গলবার বীরভূমে উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। জমিজট আর প্রশাসনিক টানাপোড়েনে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণ থমকে যাওয়ায় কার্যত ‘নরক যন্ত্রণার’ শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। রাস্তায় বিশালাকার গর্ত হয়ে গিয়েছে। বীরভূমের এই ‘লাইফলাইন’ দিয়ে চলছে বালি ও পাথরের ওভারলোডেড ট্রাকের দৌরাত্ম্য। প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে চলা এই কারবারের খেসারত দিতে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের।

Advertisement

মুর্শিদাবাদের মোড়গ্রাম থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এই ১৪নম্বর জাতীয় সড়ক দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। রামপুরহাট, সিউড়ি, রানিগঞ্জ, বিষ্ণুপুর, গড়বেতা, শালবনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছুঁয়ে যাওয়া এই সড়ককে ঘিরেই আবর্তিত হয় রাজ্যের অর্থনীতি। কিন্তু, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সাফ দাবি, যে নকশা অনুযায়ী রাস্তা চওড়া করার কথা ছিল, জনশুনানিতে তা নিয়ে বারংবার আপত্তি উঠেছে। বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও পুরসভা এলাকায় জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সদিচ্ছার অভাব দেখা দিয়েছে। জমিজটের কারণেই আপাতত ফোর লেনের স্বপ্ন ‘শীতঘুমে’। তবে ফোরলেন না হওয়া যতটা উদ্বেগের, তার চেয়েও বেশি আশঙ্কার হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান রাস্তার কঙ্কালসার দশা। বীরভূমের বালি ও পাথরের অবৈধ কারবারই এই ধ্বংসের মূলে বলে অভিযোগ। রাস্তার ভার বহন ক্ষমতা যেখানে বড়জোর ৫০টন সেখানে দৈনিক কয়েক হাজার ট্রাক ১০০টনের বেশি পণ্য নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। প্রশাসনের নজরদারির তোয়াক্কা না করেই ওভারলোডেড ট্রাকের এই দাপটে পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বালি-পাথর পরিবহণই জাতীয় সড়কের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সব দেখেও প্রশাসন নির্বিকার।
এই বেহাল রাস্তার কারণে দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। সিউড়ির বেসরকারি সংস্থা কর্মী আদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলছিলেন, প্রাণ হাতে করে প্রতিদিন সিউড়ি থেকে মহম্মদবাজার যাতায়াত করতে হয়। রাতের দিকে বাইক চালানো মানে যমরাজের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া। বাইক নিয়ে রাস্তার গর্তে পড়ে বহু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অনেকে আবার হাত-পা ভেঙে এখনও শয্যাশায়ী।  সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি জানান, গত মঙ্গলবার প্রশাসনিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ফোরলেন রাস্তাও হচ্ছে না। এদিকে রাস্তার সংস্কারও হচ্ছে না। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ কাজ না করলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। সাংসদ শতাব্দী রায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন,  ফোরলেন নিয়ে সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন।
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করেছে, রাস্তার উপর থাকা সেতুগুলির সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রুত মূল রাস্তা মেরামতির বিষয়ে তারা আশাবাদী। কিন্তু, ফোর লেনের ব্যাপারে কোনও দিশা দিতে পারেনি তারা। যতক্ষণ না ওভারলোডেড ট্রাকের উপর রাশ টানা হচ্ছে এবং ফোর লেনের জট কাটছে, ততক্ষণ বীরভূমের মানুষের এই পথযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো দিশা দেখা যাচ্ছে না।  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ