নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: আইআইটি বা আইআইএম হবে শিলিগুড়িতে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার পর জমি দেখতে ময়দানে নেমেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই মাটিগাড়া ও নকশালবাড়ি ব্লকে এতবড়ো মাপের একটি প্রকল্প গড়ার জন্য জমি দেখা হয়েছে। প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জন্য চারটি জমি প্রাথমিকভাবে দেখা হয়েছে। ওই জমি চূড়ান্ত হলেই সরকারিভাবে ঘোষণা করা হবে। এ ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্যে অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী তথা মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক অনন্দময় বর্মন। রবিবার শিলিগুড়িতে প্রতিমন্ত্রী জানান, মাটিগাড়ায় মহাকাল মন্দিরের জমিতে করা হবে আন্তর্জাতিক মানের যোগা সেন্টার। সঙ্গে থাকবে আয়ুষ মন্ত্রকের উত্তরবঙ্গের বিভাগীয় কার্যালয়।
গত মঙ্গলবার গণতন্ত্র বাঁচাও কর্মসূচি নিয়ে শিলিগুড়িতে মহামিছিল করার পর এখানে আইআইটি বা আইআইএম স্থাপনের কথা ঘোষণা করে যান মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যে ওই প্রকল্পগুলি মাটিগাড়া কিংবা নকশালবাড়িতে স্থাপনের দাবি তুলেছেন অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে এখানে আইআইটি বা আইআইএম নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। ভোটে জেতার পর সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলি নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠাই। কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করার পর প্রকল্প গড়ার জন্য জমিও দেখা হয়। মাটিগাড়া ও নকশালবাড়িতে চারটি জমি দেখা হয়েছে। সেগুলি একসময় চা বাগানের ছিল। ইতিমধ্যে বিষয়টি রাজ্য সরকারকে জানানোও হয়েছে। আশা করছি, সব ঠিকঠাকই থাকবে। আমরা এ ব্যাপারে শীঘ্রই রাজ্যের সবুজ সংকেত পাব।
গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে মাটিগাড়ায় এসজেডিএ’র জমিতে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকল্পটির নির্মাণ কাজও শুরু হয়। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হতেই প্রকল্পের কাজ থমকে যায়। ঠিকাদার সংস্থা ক্যাম্প অফিস গুটিয়ে নিয়ে যায়। এখন জমিটি পতিত পড়ে রয়েছে। একদা ওই জমি চাঁদমণি চা বাগানের ছিল।
সংশ্লিষ্ট এলাকা মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে। এদিন স্থানীয় বিধায়ক তথা অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশাল ওই জমিতে আন্তর্জাতিক মানের যোগা সেন্টার তৈরির সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সেন্টারের পাশেই থাকবে আয়ুষ মন্ত্রকের উত্তরবঙ্গের বিভাগীয় কার্যালয়। ভবিষতে রাজ্য সরকারও আয়ুষ দপ্তর চালু করতে পারে। তখন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যালয়ও ওই মন্ত্রকের পাশেই হবে। এছাড়া সেখানে থাকবে মহাকাল মূর্তি। বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনা করার পরই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



