নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: সাইবার প্রতারণা চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করল হুগলি গ্রামীণ পুলিশের সাইবার শাখা। পাণ্ডুয়াতে অভিযান চালিয়ে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদের বাসিন্দা চারজন সাইবার প্রতারককে ধরা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে ১৫টি মোবাইল ফোন, একগুচ্ছ এটিএম কার্ড, ল্যাপটপ ও অন্যান্য সামগ্রী মিলেছে। ধৃত চারজনই পাণ্ডুয়ায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে গত ৯ মাস ধরে প্রতারণা চক্র চালাচ্ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত, বিভিন্ন গ্যাস কোম্পানির গ্রাহক করার নামে ওই চারজন প্রতারণার জাল বিছিয়েছিল। ইতিমধ্যে একগুচ্ছ অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে পাওয়া গিয়েছে। সাইবার ক্রাইম শাখার দাবি, অনন্ত ১৮ লক্ষ টাকার প্রতারণা ওই চক্র করেছে।
কেমন করে প্রতারণা করা হত? জানা গিয়েছে, গ্যাসের সংযোগ নিতে কেউ রাজি হলেই তাঁকে একটি এপিকে ফাইল পাঠানো হত। মূলত হোয়াটসঅ্যাপ মারফত তা পাঠাত প্রতারকরা। সেই ফাইল ইনস্টল করলেই ফোনের নিয়ন্ত্রণ চলে যেত প্রতারকদের কাছে। তারপরেই টাকা তুলে নেওয়া হত। বিশেষজ্ঞ দিয়ে দল গঠন করে ওই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে সাইবার ক্রাইম শাখা।
এদিকে, অনলাইন শপিংয়ের অ্যাপ ব্যবহার করে প্রতারণা চক্র সক্রিয় হয়েছে পাণ্ডুয়ায়। পাণ্ডুয়ার শিখিরাচাপটার বাসিন্দা শ্যামলী বিশ্বাসের অ্যাকাউন্ট থেকে সম্প্রতি ৮৫ হাজার টাকা গায়েব করে দিয়েছে প্রতারকরা। এনিয়ে ইতিমধ্যে পাণ্ডুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারণার টাকা ফরাক্কার একটি অ্যাকাউন্ট থেকে অসমে চলে গিয়েছে। প্রতারকদের ধরার চেষ্টার পাশাপাশি টাকা ফেরানোর প্রয়াসও পুলিশ শুরু করেছে। জানা গিয়েছে, শ্যামলীদেবী সম্প্রতি অনলাইনে শপিং করেছিলেন। কিন্তু পণ্যটি পছন্দ না হওয়ায় তিনি ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখনই প্রতারকরা সক্রিয় হয়। তারা ফোন করে জানায় একটি অ্যাপ ইনস্টল করে পণ্য ফেরানোর প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। ওই মহিলা সেই অ্যাপ ডাউনলোড করে চালু করতেই দফায় দফায় টাকা কাটতে শুরু করে।



