Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নতুন বছরের শুরুতেই টানা চারদিনের ছুটি তারাপীঠে পর্যটকের ঢল, খুশি ব্যবসায়ীরা

টানা চারদিনের ছুটি। তার উপরে পুরনো বছর শেষ হয়ে নতুন বছরের আগমন। ফলে তারাপীঠে নেমেছে পর্যটকদের ঢল।

নতুন বছরের শুরুতেই টানা চারদিনের ছুটি তারাপীঠে পর্যটকের ঢল, খুশি ব্যবসায়ীরা
  • ১৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: টানা চারদিনের ছুটি। তার উপরে পুরনো বছর শেষ হয়ে নতুন বছরের আগমন। ফলে তারাপীঠে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। রাজ্য ছাড়িয়ে ভিন রাজ্যের হাজার হাজার ভক্ত ও ভ্রমণপিপাসু মানুষজন এখন বামাখ্যাপার সাধনাস্থলে ভিড় জমিয়েছেন। অধিকাংশ হোটেলই পর্যটকদের ভিড়ে ঠাসা। তাই হোটেল মালিকদের মুখে চওড়া হাসি। 

Advertisement

ছুটি হলেই বাড়িতে মন টেকে না ভ্রমণপিপাসুদের। তারপর ছুটি যদি হয় একটানা, তাহলে তো সোনায় সোহাগা! শনি ও রবিবার ছুটি। আজ সোমবার বি আর আম্বেদকরের জন্মদিন ও আগামী কাল ‌পয়লা বৈশাখ।  তাই টানা চারদিন ছুটি উপভোগ করতে অনেকেই বেড়াতে যাওয়ার জন্য তারাপীঠকে বেছে নিয়েছেন। সকলেই চান দেবী তারার পুজো দিয়ে তাঁর আশীর্বাদ নিয়ে বছর শুরু করতে। শনিবার রাত থেকেই পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে এই তীর্থভূমিতে। ভোর থেকেই দেবী তারাকে পুজো দেওয়ার জন্য লম্বা লাইন পড়ে যাচ্ছে ভক্তদের। বেলা যত বাড়ছে, ভিড়ও ততই বাড়ছে। অনেকে তারাপীঠকে কেন্দ্র করে ম্যাসাঞ্জোর, নিতাইয়ের জন্মস্থান বীরচন্দ্রপুর ও বীরভূমে থাকা সতীপীঠগুলি ঘুরতে বেরিয়ে পড়ছেন। ফলে হোটেল কর্তৃপক্ষ থেকে পরিবহণ ব্যবস্থার সাথে যুক্ত, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে কার্যত পৌষ মাস। 
কলকাতা থেকে পরিবার নিয়ে এসেছেন স্নেহাশিস দাস। তিনি সরকারি কর্মচারী। তিনি বলেন, অনেকদিন থেকেই তারাপীঠ সহ এই জেলার তীর্থস্থান ঘুরে দেখার জন্য পরিকল্পনা করছিলাম। কিন্তু একদিনের ছুটিতে তো আর সেটা সম্ভব নয়। তাই টানা চারদিন ছুটি পেতেই শনিবার রাতেই তারাপীঠে পৌঁছে গেছি। এদিন সকালে দেবী তারাকে পুজো দিয়ে বীরচন্দ্রপুর, নলাটেশ্বরী, ফুল্লরা সহ বিভিন্ন তীর্থক্ষেত্র ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন তিনি। অন্যদিকে, বাঁকুড়া থেকে বন্ধুদের সঙ্গে এসেছেন অর্নিবাণ মণ্ডল। তিনি বলেন, আমরা চারজন বন্ধু সপরিবারে এসেছি। সকলেই সরকারি কর্মচারী। এদিন পুজো দিয়ে তাঁরা ম্যাসাঞ্জোরের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েন। রাতে তারাপীঠ ফিরবেন। পরের দু’দিন বীরভূমের পাঁচ সতীপীঠ ঘুরে বাড়ি ফিরবেন।  
তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও স্কুলের পরীক্ষা শেষ হওয়ায় এখন নিত্যদিন পর্যটকরা তারাপীঠ আসছেন। তবে টানা চারদিনের ছুটিতে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। পয়লা বৈশাখের দিন সেই ভিড় আরও বাড়বে। পুজো দেওয়ার নতুন নিয়মে ভক্তরা খুশি। তাঁদের আর দীর্ঘক্ষণ লাইন দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না। ভিড়ে যাতে অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা না ঘটে সেজন্য নিরাপত্তা কর্মীদের সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনীল গিরি বলেন, চৈত্র শেষ ও বাংলা বছরের শুরুতে প্রতিবছরই যাত্রীদের ভিড় থাকে। এবার টানা ছুটিতে সেই ভিড় কয়েকগুণ বেড়েছে। তবে হোটেল বুকিং দেখে বোঝা যাচ্ছে, সোম ও মঙ্গলবার ভিড় অনেকটাই বাড়বে। তিনি বলেন, অধিকাংশ রুম চারদিনের জন্য বুকিং। তবে দিনে হোটেল যাত্রীরা কেউ থাকছেন না। তাঁরা গাড়ি ভাড়া করে জেলার বিভিন্ন ধর্মীয় ও দর্শনীয় স্থান দর্শনে বেরিয়ে পড়ছেন। রাত হলেই হোটেল ফিরে আসছেন। অন্যদিকে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ায় জেলার অন্যান্য সতীপীঠ ও ধর্মীয় স্থানেও পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। পুলিস জানিয়েছে, পর্যটকদের ভিড় বাড়ায় বাড়তি নিরাপত্তা নিতে হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ