Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুরের বাজারে আম বিক্রি করতে গিয়ে নিখোঁজ দুঃস্থ পরিবারের চার শিশু

একই পরিবারের চারজন শিশু দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজারে আম বিক্রি করতে গিয়ে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

দুর্গাপুরের বাজারে আম বিক্রি করতে গিয়ে নিখোঁজ দুঃস্থ পরিবারের চার শিশু
  • ১৮ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: একই পরিবারের চারজন শিশু দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজারে আম বিক্রি করতে গিয়ে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নিখোঁজদের পরিবারের লোকজন দুর্গাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। নিখোঁজ হওয়ার ১২ দিন পরও হদিশ মেলেনি তাদের। দুশ্চিন্তায় ভুগছেন তাদের পরিবারের লোকজন। পুলিস অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কুড়ুরিয়া ডাঙ্গা এলাকার পাসি পাড়ার বাসিন্দা ওই ৪ শিশু। মঙ্গলা পাসির বছর ১২ ও ৮-এর দুই পুত্র সন্তান কিষান ও মিলন নিখোঁজ হয়ে যায়। মঙ্গলা পাসির মৃত দাদা ধলু পাসির বছর ৬ ও ৮-এর দুই পুত্র আকাশ ও গিরি নিখোঁজ হয়েছে। চলতি মাসের ৫ তারিখে তারা নিখোঁজ হয়। তারা ওইদিন সকালে স্টিল টাউনশিপের একটি আম গাছ থেকে পাকা আম পাড়ে। এরপর প্রায় ৫ কেজি আম নিয়ে বেনাচিতি বাজারের রাস্তার ধারে বসে বিক্রি করতে যায়। সেখানে বসে ৪ জন শিশু মিলে আম বিক্রিও করে। এর পরেই তারা হঠাৎ উধাও হয়ে যায় বলে অভিযোগ। পরিবারের লোকজন বাজার সহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেন। তাদের সন্ধান না মিললে পুলিসে নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন।
নিখোঁজ শিশুদের দাদা কেষ্ট পাসি বলে, আমাদের আর্থিক অনটনের সংসার। আমি বেনাচিতি বাজারে একটি খাবারের হোটেলে কাজ করি। কাকার আরও দু’টি ছেলে দিনমজুরির কাজ করে। নিখোঁজ ৪ ভাইদের পড়াশোনাও করাতে পারি না। সারাদিন এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ায়। বাড়ি থেকে হেঁটে হেঁটে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে বেনাচিতি বাজার যেত ওই ৪ জন। আবার ফিরে আসত। ওইদিন তারা বাজারে আম বিক্রি করছিল। আমার হোটেলের মালিক তাদের দেখে অবাক হয়ে যান। তিনি ওদের আম বিক্রি করার একটা ছবিও মোবাইল ফোনে তুলে এনে আমাকে দেখান। আমি বেলা ১২টা নাগাদ সেখানে গিয়ে দেখি ভাইরা নেই। বাড়িতে এসে দেখি বাড়ি ফেরেনি তারা। খোঁজাখুঁজি শুরু করি। ১২ দিন পার হয়ে গেলেও তাদের সন্ধান না মেলায় পরিবারের সবাই খুব দুশ্চিন্তায় আছি। এসিপি (দুর্গাপুর) সুবীর রায় বলেন, এলাকার সিসিটভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ