নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির ধনেখালিতে মেয়েকে নিয়ে বাবা ও মায়ের আত্মহত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শুক্রবার আত্মহত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই দেওয়ালে লেখা ‘সুইসাইড নোট’ পায় পুলিশ। তারপরেই চারজনকে আটক করা হয়েছিল। শুক্রবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পরে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার মধ্যে একজন মৃতদের প্রতিবেশী রবীন্দ্রনাথ মুর্মু। বাকি তিনজন মধুমিতা সিংহরায়, ইন্দ্রাণী সিংহরায় ও জয় সিংহরায়। আত্মঘাতী পরিবারটি মধুমিতাদেবীর বাড়িতেই ভাড়া থাকত। ইন্দ্রাণী, মধুমিতার মা এবং জয়, মধুমিতার স্বামী। শনিবার চারজনকেই চুঁচুড়া আদালতে পেশ করেছিল পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা হয়েছে।
তবে তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। শুক্রবারই ইঙ্গিত মিলেছিল যে, একটি সোনার গয়না চুরির ঘটনা এই ‘পারিবারিক আত্মহত্যা’র পিছনে থাকতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা দাবি করেছে, আত্মঘাতী হওয়া চাঁই পরিবার প্রতিবেশী রবীন্দ্রনাথ মুর্মুর গয়না চুরি করেছিল। বিষয়টি ধরা পড়ে যাওয়ার পরে উত্তম চাঁই ৬ লক্ষ টাকা নগদ ও পরে অনলাইনে ২ লক্ষ টাকা রবীন্দ্রনাথকে দিয়েও দেন। কিন্তু অভিযোগ, গয়নার বাজার মূল্য হিসাবে আর চার লক্ষ টাকার দাবি তোলে রবীন্দ্রনাথ। সিংহরায় পরিবারও রবীন্দ্রনাথের পাশে দাঁড়িয়ে উত্তম ও তাঁর স্ত্রী রূপাকে চাপ দিতে শুরু করে।
ঘটনাচক্রে ওই চুরির ঘটনার আগেই আরও দু’টি ঘটনা ঘটেছিল। প্রথমত, উত্তমবাবুর মেয়ে অঙ্কিতার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, উত্তম চাঁই বাড়ি কেনার জন্য তাঁর ভাড়াবাড়ির মালকিন মধুমিতা সিংহরায়কে চারলক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চাঁই দম্পতি স্পর্শকাতর হয়ে পড়েছিলেন। সেখান থেকেই তাঁরা সপরিবারে আত্মহত্যা করতে পারেন।
তবে বাস্তবে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে গ্রামীণ পুলিশ কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে এক পুলিশকর্তা বলেন, একপক্ষের বক্তব্য জানা যাচ্ছে। অন্যপক্ষ মৃত। ফলে নিশ্চিত হতে সময় লাগছে। আপাতত, এক স্বর্ণব্যবসায়ীর খোঁজ করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, শুক্রবার দুপুরে ধনেখালির সোমশপুরের দুলেপাড়া থেকে একই পরিবারের তিনজনের ঝুলন্ত দেহ পুলিশ উদ্ধার করেছিল।