Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সোনার দোকানে বন্দুক উঁচিয়ে ডাকাতি, প্রমাণের অভাবে ২৯ বছর পর খালাস চার

বউবাজারে এক সোনার দোকানে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় প্রমাণের অভাবে দীর্ঘ ২৯ বছর পর চার অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস দিল আদালত।

সোনার দোকানে বন্দুক উঁচিয়ে ডাকাতি, প্রমাণের অভাবে ২৯ বছর পর খালাস চার
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: বউবাজারে এক সোনার দোকানে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় প্রমাণের অভাবে দীর্ঘ ২৯ বছর পর চার অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস দিল আদালত। বুধবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতের দ্বিতীয় ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক শ্রুতিরূপা ঘোষ ওই আদেশ দিয়েছেন। আদালতের মন্তব্য, সরকার পক্ষ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছিল, তা প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাঁদের মামলা থেকে রেহাই দিচ্ছে। মুক্তিপ্রাপ্ত চার ব্যক্তি হলেন আফতার আলি খান, বাবান মল্লিক, গৌতম দেউরি ও উৎপল পাল। তাঁদের কৌঁসুলি আলপনা ভৌমিক বলেন,‘আমার মক্কেলদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা দায়ের হয়েছিল, আদালতের রা঩য়েই তা প্রমাণিত হয়ে গেল। আদালতে এই ডাকাতি মামলার কোনও শক্তপোক্ত প্রমাণ পুলিশ দিতে পারেনি। মামলায় ছিল একরাশ অসঙ্গতি।’ যদিও সরকারি কৌসুলি এই মামলার রায় নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।

Advertisement

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে, ১৯৯৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মধ্য কলকাতার বউবাজার থানা এলাকার একটি সোনার দোকানে। ১২ জনের সশস্ত্র ডাকাত দল ওই দোকানে ঢুকে অস্ত্রশস্ত্র উঁচিয়ে কর্মচারীদের মুখ বেঁধে দু’কেজি ১৭০ গ্রাম ওজনের সোনার অলঙ্কার ও নগদ ৪ লক্ষ টাকা লুট করে চম্পট দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছয়। অভিযুক্তদের ফিঙ্গার প্রিন্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ ১২জনকে মামলায় অভিযুক্ত করে। তদন্ত শেষে ধৃতদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট পেশ করা হয়। মামলাটি  বিচারের জন্য যায় কলকাতা নগর দায়রা আদালতে। সেখানে চার্জ গঠন করে শুরু হয় মূল মামলার বিচার। আদালত সূত্রের খবর, দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় এই মামলায় ১২জন অভিযুক্তের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু ও কয়েকজন চম্পট দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত চারজনের বিরুদ্ধে চলে মূল মামলার বিচার। মামলায় সাক্ষ্য দেন ৫৯ জন। দীর্ঘ শুনানির শেষে বিচারক এদিন পুলিশি তদন্তে গাফিলতির কারণে ওই চার অভিযুক্তকে মামলা থেকে বেকসুর খালাস দেন।
একদিকে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা, অন্য঩দিকে, সাক্ষীদের সাক্ষ্যে নানা অসঙ্গতি ছাড়াও সিজার লিস্ট সহ নানা আইনি কারণে এই মামলা থেকে অভিযুক্তরা বেকসুর খালাস পান বলে আদালত সূত্রের খবর। এদিকে, খোদ শহরের বুকে একটি সোনার দোকানে বিপুল টাকার সোনার গয়না ডাকাতির ঘটনায় অভিযুক্তরা বেকসুর খালাস পাওয়া নিয়ে এদিন কলকাতা পুলিশে শোরগোল শুরু হয়। এই রায় নিয়ে ডাকাতি দমন শাখার অফিসাররাও শুরু করে দেন নানা খোঁজখবর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ