সংবাদদাতা, মানকর: শনিবার কাঁকসার অন্যতম প্রাচীন শ্যামরূপা মন্দির ও দেউল পার্ক যাওয়ার রাস্তার কাজের শিলান্যাস হল। সেই অনুষ্ঠানে পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক সৌরভ চট্টোপাধ্যায় সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এদিন শ্যামরূপা মোড় অর্থাৎ মুচিপাড়া-শিবপুর পিডব্লুডি রোড থেকে শ্যামরূপা মন্দির অবধি প্রায় পাঁচ কিমি ও ওই মন্দির থেকে দেউল পার্ক অবধি প্রায় সাড়ে চার কিমি রাস্তার কাজের শিলান্যাস হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শ্যামরূপা মন্দির ও দেউল পার্কে সারাবছর পর্যটকরা আসেন। কিন্তু দুই জায়গাতেই যাওয়ার রাস্তার দশা খারাপ। সেজন্য পর্যটকদের সমস্যা হয়। নতুন রাস্তা হলে পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়বে।
শ্যামরূপা ও দেউল যাওয়ার রাস্তা দু’টি পেভার ব্লক দিয়ে সংস্কার হতে চলেছে। ‘বর্তমান পত্রিকা’য় এখবর প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এদিন প্রদীপবাবু বলেন, প্রায় নয় কিমি রাস্তা পেভার ব্লক দিয়ে তৈরি হচ্ছে। এই দু’টি রাস্তা তৈরি অনেকদিনের দাবি ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদনে রাস্তার কাজের সূচনা হয়। পর্যটন বাড়লে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। অজয়ের নতুন সেতুর কাজও প্রায় শেষের পথে।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, মহারাজা লক্ষ্মণ সেনের আমলে এখানে একজন কাপালিক নরবলি দিয়ে শক্তিসাধনা করতেন। কবি জয়দেব এসে নরবলি বন্ধের জন্য কাপালিককে অনুরোধ করেন। কিন্তু কাপালিক তা না মানলে জয়দেব নিজস্ব ভক্তিবলে কালীপ্রতিমার মুখ শ্রীকৃষ্ণের মতো করে দেন। কাপালিককে শ্যামরূপে মা কালীর দর্শন করান। সেই থেকে দেবীর নাম হয় শ্যামরূপা। এই নামটিও নাকি কবি জয়দেবেরই দেওয়া।
এখানে দেবী এখানে একাধারে কালী ও দুর্গা। কথিত রয়েছে, অবিভক্ত বাংলার প্রথম দুর্গাপুজো এখানেই হয়। এখান থেকেই প্রায় পাঁচ কিমি মোরামের রাস্তা পেরোলেই চোখে পড়বে ইছাই ঘোষের দেউল। গোপবংশের রাজা ইছাই ঘোষ এই দেউলটি তৈরি করেছিলেন। এখন দেউলটি ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের অধীনে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শ্যামরূপা মন্দির যাওয়ার রাস্তাটি মলানদিঘি পঞ্চায়েত ও দেউল যাওয়ার রাস্তাটি বনকাটি পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ছে। রাস্তাটি সংস্কারের বিষয়ে একাধিকবার আবেদনও করা হয়েছিল। এবার কাজ শুরু হওয়ায় সবাই খুশি।
কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য বলেন, বিভিন্ন জটিলতা থাকলেও এলাকার মানুষের দাবি মেনে এই রাস্তার কাজের সূচনা হল। পেভার ব্লক দিয়ে ১৪ ফুটের রাস্তা হবে। রাস্তার দু’দিকে দু’ফুট করে মোরাম দেওয়া ফুটপাত থাকবে। মন্দিরের সেবায়েত সন্তোষ রায় বলেন, রাস্তার কাজের সূচনা হয়েছে। এতে মন্দিরের দর্শনার্থী ও এলাকার বাসিন্দাদের উপকার হবে।