Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রঘুনাথপুরে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় পর্যায়ে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

রঘুনাথপুরে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের  দ্বিতীয় পর্যায়ে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
  • ১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: গত বছর মার্চ মাসে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভার্চুয়ালি রঘুনাথপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের শিলান্যাস করেছিলেন। বুধবার সেই রঘুনাথপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় পর্যায়ের ভিত্তি প্রস্তরের মাধ্যমে কাজের শুভ সূচনা হয়। এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ডিভিসির চেয়ারম্যান এস সুরেশ কুমার কাজের সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রজেক্টের এইচওপি আর কে শ্যামল, সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাত, জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাত, বিধায়ক বিবেকানন্দ বাউরি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজ শুরু হওয়ায় এলাকার বাসিন্দারা খুশি। জমিহারা পরিবারগুলিকে যাতে আগে কাজ দেওয়া হয়, তার জন্য তৃণমূল ও বাম দলের তরফে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।

Advertisement

চেয়ারম্যান বলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ে দু’টি ইউনিট তৈরি হয়ে যাবে। প্রতিটি ইউনিটে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। বর্তমানে দু’টি ইউনিট রয়েছে, যেখানে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। এছাড়া ঝাড়খণ্ডের কোডার্মাতে এবং দুর্গাপুরে ৮০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন ইউনিট তৈরি হবে। আগামী দিনে রঘুনাথপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ডিভিসির দ্বিতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে স্থান পাবে।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর শিলান্যাসের পরেও দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ ঘিরে অনিশ্চয়তা দেখা গিয়েছিল। কোনও সংস্থা প্রথমে কাজ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেনি। পরে কাজ করার জন্য তিনটি সংস্থা আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে এটা নতুন কিছু নয়। আগেও ২০১০ সালের তৎকালীন কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজের শিলান্যাস করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় রঘুনাথপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রথম পর্যায়ে উৎপাদন ঠিকমতো শুরু করতে না পারার জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চিন্তা ভাবনা হয়েছিল। তবে বর্তমানে রঘুনাথপুরে নতুন করে দ্বিতীয় পর্যায়ের অনুমোদন পাওয়ায় কাজ শুরু হচ্ছে। 
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের জন্য প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কাজ করার জন্য ডিভিসিকে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে না। তাদের নিজস্ব জমি রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের উৎপাদিত বিদ্যুৎ গুজরাত, কর্ণাটক, কেরল সহ বিভিন্ন রাজ্যে সরবরাহ করা হবে। এছাড়া রেলকেও দেওয়া হবে। প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ১৫০০-২০০০ মানুষ কাজ পাবেন। স্থানীয় ও জমিহারাদের কাজে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে
প্রাক্তন বিধায়ক পূর্ণচন্দ্র বাউরি বলেন, দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ হচ্ছে এটা খুশির খবর। আমরা চাই শিল্পের প্রসার হোক। তবে এলাকার প্রচুর জমিহারা পরিবার এখনো পর্যন্ত কাজ পায়নি। বিধায়ক থাকার সময় একাধিকবার আন্দোলনের মাধ্যমে অনেক জমিহারাদের কাজের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আমরা এখনো লড়াই করছি। আমরা চাই দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের জন্য জমিহারা পরিবারগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। সেই বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কাজের বরাত পাওয়া একটি সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৪৮ মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা হবে। সাংসদ বলেন, আগামী দিনে ভারত বিশ্বে একটি শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করবে। এদিন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজের সূচনার পাশাপাশি অ্যাডমিন বিল্ডিংয়ের সামনের মূল গেটের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ