নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এবার উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সমতলে ১৬শো কোটি টাকায় তৈরি হবে ৩৭টি জল প্রকল্প। কোনও প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে। আবার কোনও প্রকল্পের ডিটেল প্রোজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) অনুমোদন হয়েছে। কোনও প্রকল্প নিয়ে টেন্ডার ডাকা হয়েছে। সম্প্রতি শিলিগুড়িতে স্টেট গেস্ট হাউসে প্রকল্পগুলি নিয়ে ২৬টি পুরসভার সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠক করেছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। বৈঠকে এমইডি’র চিফ ইঞ্জিনিয়ার ছাড়াও আম্রুত-২ প্রকল্পের রাজ্য মিশন ডিরেক্টর ও দু’জন অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। এদিকে, আগামী ২১ মার্চ শিলিগুড়িতে মেগা জল প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ‘পন্ড’ তৈরির শিলান্যাস করা হবে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, ওই প্রকল্পগুলির মধ্যে ৩৪টির ডিটেল প্রোজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) পাশ হয়েছে। যারমধ্যে পাহাড়ে ১০ কোটি টাকায় মিরিক লেক সংস্কার, কার্শিয়াংয়ের জল প্রকল্পের জন্য ২১০ কোটি টাকা। এখানে বালাসন নদী থেকে জল তুলে ডাউহিল লেকে নিয়ে গিয়ে পরিস্রুত করে সরবরাহ করা হবে। কালিম্পংয়ের জন্য ২৬৬ কোটি টাকার প্রকল্প। ভালুখোলায় তিস্তা নদী থেকে জল তুলে দু’টি পাম্পিং স্টেশনের মাধ্যমে ডেলোর সিভিল লেকে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ট্রিটমেন্ট প্লান্টে জল পরিস্রুত করার পর বাড়ি বাড়ি সরবরাহ করা হবে। এমইডি’র জোনাল চিফ ইঞ্জিনিয়ার (উত্তরবঙ্গ) চিত্তরঞ্জন বর্মন বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলি নিয়ে বৈঠকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। শীঘ্রই সেগুলির নির্মাণকাজ শুরু হবে।
এরবাইরে দার্জিলিং পাহাড়ে ২০৪ কোটি টাকায় ২১টি ঝোরা সংস্কার করা হয়েছে। সেগুলির জল বাড়ি বাড়ি পৌঁছনোর জন্য ২৩টি ট্যাঙ্ক তৈরি করা এবং পাইপ লাইন পাতার কাজ শেষ হয়েছে। শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট প্রকল্প চালু হবে। তা হলেও দার্জিলিং পাহাড়ে জলের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। তাই ২৩৮ কোটি টাকায় সেখানে আরওএকটি প্রকল্প তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে। এজন্য শ্রীখোলা ও রম্ভি নদী দু’টি দেখা হয়েছে।
এছাড়া, শিলিগুড়ি শহরের মেগা জল প্রকল্প নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পরে মেয়র গৌতম দেব বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের প্রায় ৪২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ইনটেক পয়েন্ট তৈরির জন্য বনদপ্তরের বন্যপ্রাণ বোর্ডের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। আগামী ২১ মার্চ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে পন্ড তৈরির জন্য শিলান্যাস করা হবে। এরপর প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে শহরে পাইপ লাইন পাতার কাজে হাত দেওয়া হবে। এজন্য সমীক্ষাও শুরু হয়েছে। বৈঠকে বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়।
এদিকে, কোচবিহার ও পুরাতন মালদহের জল প্রকল্পের ডিপিআর এখনও পাশ হয়নি। প্রশাসন সূত্রের খবর, কোচবিহারের জল প্রকল্পের জন্য প্রায় ১১ কোটি টাকার ডিপিআর প্রস্তুত করা হয়েছে। সেটি আবার খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তা বাড়িয়ে ১৩ থেকে ১৪ কোটি টাকা হবে। পুরাতন মালদহে জল প্রকল্পের জন্য ৫১ কোটি টাকার ডিপিআর প্রস্তুত করা হয়েছে। শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট দু’টি ডিপিআর পাশ হবে বলেই খবর।