নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: দমদমের সাঁপুইপাড়ায় এক নাবালিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছিল শনিবার। সেই ঘটনায় অভিযুক্তকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করা ও সালিশি সভা ডেকে নির্যাতিতার পরিবারকে মিটমাট করে নেওয়ার নিদান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এলাকার প্রাক্তন কাউন্সিলার জলিল মণ্ডলের বিরুদ্ধে। রবিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনতেই তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপি কর্মীরা থানা চত্বরে পুলিশের হাত থেকে জলিলকে ছাড়িয়ে নিয়ে মারধর করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের খণ্ডযুদ্ধ হয়। মাটিতে পড়ে যান দমদম থানার ওসি। পুলিশের পালটা মারে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী জখম হয়েছেন বলে খবর। দমদমের বিধায়ক অরিজিৎ বক্সি সেই সময় থানাতেই ছিলেন। তাঁর উপস্থিতিতেই চলে মারধর। শেষমেশ তিনি কোনোমতে বিজেপি কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করেন।
দমদম পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার জলিল মণ্ডল। ওই ওয়ার্ডের সাঁপুইপাড়ায় শনিবার রাতে এক নাবালিকার শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। নিগৃহীতার মায়ের অভিযোগ, বিলাল গাজি নামের এক প্রতিবেশী মোবাইল ফোন দেখানোর নাম করে তাঁর মেয়েকে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন করে। তিনি ও তার এক মহিলা প্রতিবেশী মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে স্বচক্ষে ওই ঘটনা দেখেছেন। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, প্রাক্তন কাউন্সিলার জলিল মণ্ডল অভিযুক্ত বিলাল গাজিকে এলাকা ছাড়তে সাহায্য করেন। এমনকি, সালিশি সভা বসিয়ে বিষয়টি মিটমাট করে নেওয়ার জন্য নাবালিকার মাকে চাপ দেন বলে অভিযোগ। নাবালিকার পরিবার রবিবার সকালে বিষয়টি স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বকে জানালে আসরে নামে গেরুয়া পার্টির কর্মীরা। এরপর নিগৃহীতার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ জলিল মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।
জলিলকে থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে, এই খবর রটতেই বিজেপি কর্মীরা জড়ো হন সেখানে। কিছুক্ষণ বাদে জলিলকে নিয়ে পুলিশের গাড়ি থানা চত্বরে আসতেই ঘিরে ধরেন বিজেপি কর্মীরা। সেই সময় পুলিশ ভিড় সরিয়ে জলিলকে নিয়ে থানায় ঢুকতে গেলে ঝাঁপিয়ে পড়ে উত্তেজিত কর্মীরা। তাঁরা জলিলকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। ধৃতকে বাঁচাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের ধস্তাধস্তি হয়। খোদ ওসি মাটিতে পড়ে যান। কয়েকজন পুলিশকর্মী কমবেশি চোট পান। এরপর পুলিশ পালটা মারতে শুরু করে। তাতে বিজেপি কর্মী অর্পণ চৌধুরী সহ তিন-চার জন অল্প-বিস্তর জখম হন। অর্পণকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বিলাল গাজির খোঁজে তল্লাশি চলছে। এদিন বারাকপুর আদালতের বিচারক জলিল মণ্ডলকে পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
থানাতেই সেই সময় ছিলেন দমদমের বিধায়ক অরিজিৎ বক্সি। তিনি দলীয় কর্মীদের কোনোমতে নিয়ন্ত্রণ করে বলেন, কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। ধাক্কাধাক্কির ঘটনা কাঙ্খিত নয়। পুলিশ বাড়াবাড়ি করলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। আমাদের কাজ নির্যাতিতার পরিবারকে বিচার পাইয়ে দেওয়া। ঘৃণ্য ঘটনায় অভিযুক্তকে বাঁচানোর চেষ্টা করা, সাক্ষী ও নির্যাতিতার পরিবারকে হুমকি দেওয়া সহ জলিল মণ্ডলের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।