নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ‘স্যার, আমার ছাত্রই আমার সর্বনাশ করে দিয়েছে। শেয়ার বাজারে টাকা খাটিয়ে মোটা লাভের টোপ দিয়ে আমার ১০লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছে। আমি তাকে স্কুলে পড়িয়েছি। দুর্ভাগ্য হল, উপযুক্ত মানুষ করতে পারিনি। আপনারা বিহিত করুন।’ বুধবার সন্ধ্যায় ভূপতিনগর থানায় হাজির হয়ে ওসির কাছে এমনই কাতর আর্জি জানালেন ওই থানার কেশাইদিঘি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক অশোককুমার নন্দ। তিনি এখনও ওই স্কুলে কর্মরত। তাঁরই ছাত্র খানজাদাপুর গ্রামের এক যুবক মোটা লাভের টোপ দিয়ে তাঁর ১০লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছে বলে অভিযোগ। ওই যুবক প্রায় ১০০কোটি টাকা প্রতারণা করেছে বলে পুলিসকে প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন। ভূপতিনগর থানার ওসি শেখ মহম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, আমরা অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত শুরু করব।
মুগবেড়িয়া পঞ্চায়েতের অন্তর্গত খানজাদাপুর গ্রামের ওই যুবক শেয়ার মার্কেটে ব্যবসা করে মোটা অঙ্কের টাকা রিটার্ন দেওয়ার নামে এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে প্রচুর টাকা তুলেছে বলে অভিযোগ। দামী মার্বেল বসানো ঝাঁ চকচকে বাড়ি। চারটি গাড়ি ছাড়াও প্রচুর সম্পত্তি বানিয়েছে। এলাকা থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতানোর পরই গা-ঢাকা দিয়েছে ওই যুবক। মাস দু’য়েক আগে তাকে এলাকায় দেখতে পেয়ে প্রতারিতরা গাছে বেঁধে মারধর করেন। তারপর থেকে বেপাত্তা অভিযুক্ত ওই যুবক। প্রতারিত অশোকবাবু তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের ভগবানপুর-২ ব্লকের নেতা। ছাত্রের কাছে এভাবে ঠকে যাওয়ার পর দলেরই বিভিন্ন নেতার দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু কাজ হয়নি। শেষমেশ থানায় গিয়ে ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এরআগে একাধিকবার টাকা ফেরত নিয়ে সালিশি সভা হয়েছে। সালিশি সভায় টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও অভিযুক্ত কথা রাখছে না বলে প্রতারিতদের দাবি।
ভগবানপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ মুগবেড়িয়ার বাসিন্দা উজ্জ্বল প্রধান বলেন, অভিযুক্ত যুবক শেয়ার ট্রেডিংয়ের ব্যবসা খুলে এই এলাকার অনেকের কাছ থেকে টাকা তুলে গাঢাকা দিয়েছে। আমরা এনিয়ে একাধিকবার সালিশি করেছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মানব পড়ুয়া বলেন, ওই যুবক অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বিষয়টি পুলিস-প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক অশোকবাবু বলেন, প্রতারণায় অভিযুক্ত যুবক আমার স্কুলের ছাত্র। আমি তাকে পড়িয়েছি। আমাকে অনেক বেশি রিটার্নের লোভ দেখিয়ে ১০লক্ষ টাকা নেয়। তারপর অন্য আরও অনেকের মতো আমার টাকাও গায়েব করে দিয়েছে। আমার নিজের ছাত্রের কাছে এভাবে প্রতারিত হতে হবে ভাবতেও পারিনি।