Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, প্রাক্তন রেল আধিকারিকের তিন বছর কারাদণ্ড

রেলের নিয়োগ দুর্নীতি-কাণ্ডে সাজা পেলেন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাক্তন আধিকারিক বিজ্ঞানভূষণ চট্টোপাধ্যায়। তিনি আদ্রা ডিভিশনের রেলের সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন।

চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, প্রাক্তন রেল আধিকারিকের তিন বছর কারাদণ্ড
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: রেলের নিয়োগ দুর্নীতি-কাণ্ডে সাজা পেলেন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাক্তন আধিকারিক বিজ্ঞানভূষণ চট্টোপাধ্যায়। তিনি আদ্রা ডিভিশনের রেলের সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। রেলে চাকরি দেওয়ার নাম করে কমপক্ষে ৩৫ জন যুবকের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা নেন বলে সিবিআ‌঩ইয়ের কাছে অভিযোগ জমা পড়ে। ২০১৬ সাল থেকে মামলার তদন্ত করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। বুধবার সেই মামলার সাজা ঘোষণা করেন বিচারক অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়। শুনানিতে হাজিরাও এড়িয়ে গিয়েছিলেন বিজ্ঞানভূষণ। ঩সিবিআই বিশেষ আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। তারপরই সিবিআই বেঙ্গালুরু থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে আনে। বুধবার কোর্টে তোলা হলে বিচারক অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে তিন বছরের কারাদণ্ড ও দশ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করেন। 

Advertisement

সরকারি আইনজীবী রাকেশ কুমার বলেন, ‘ন’ বছরের মাথায় মামলার নিষ্পত্তি হল। ৭০ লক্ষ টাকা আর্থিক প্রতারণা করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।’ বাংলায় নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে অষ্টপ্রহর রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে যাচ্ছে মোদি-অমিতের দল। কিন্তু, শিল্পাঞ্চলের একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থায় যে নিয়োগ দুর্নীতি হয়ে চলেছে, তার হাতে গরম প্রমাণ বিজ্ঞানভূষণের শাস্তি পাওয়া। 
শিল্পাঞ্চলে কান পাতলেই শোনা যায়, সেইল, রেল, পোস্ট অফিসে নিয়োগ পেতে হলে নাকি সঠিক চ্যানেল ধরতে হয়। পোস্ট অফিসে নিয়োগের ক্ষেত্রেও স্বজনপোষণের অভিযোগ ওঠে। সেইল, রেলে চাকরি দেওয়ার নামে পরীক্ষার্থীদের কাছে টোপ আসে। কড়ি ফেললেই চাকরি। এমন অভিযোগও দীর্ঘদিনের। 
জানা গিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে টোটকা কাজে লেগে যায়। অনেক ক্ষেত্রে টাকা চোট হয়ে যায়। আদ্রায় রেলে নিয়োগের নাম করে প্রচুর টাকা তুলেছিলেন বিজ্ঞানভূষণ। প্রায় ৩৫ জনের কাছ থেকে কমকরে ৭০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন তিনি। একজন কারও চাকরি হয়নি। প্রতারিতরা সিবিআইয়ের দ্বারস্থ হন। মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়। গ্রেফতারও হয়েছিলেন অভিযুক্ত। পরে জামিন পেয়ে আদ্রা ছেড়ে গা ঢাকা দেন বেঙ্গালুরুতে। আসানসোল সিবিআই ঩কোর্টে মামলা চললেও নিজের কোনও আইনজীবী নিয়োগ করেননি। শুনানির দিনগুলিতে না আসার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছিল আসানসোল সিবিআই ঩বিশেষ আদালত। জানা গিয়েছে, এই মামলায় ৩৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ