নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: রেলের প্রাক্তন আধিকারিক। মেয়ে ইংল্যান্ডে সাইবার ল’ নিয়ে পড়াশোনা করছে। এহেন ব্যক্তি শেষমেশ শিকার হলেন ডিজিটাল অ্যারেস্টের। নাগেরবাজার থানা এলাকার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাইবার প্রতারকরা জানিয়েছিল, দিল্লি বিস্ফোরণে তাঁর সিমকার্ড ব্যবহার করা হয়েছে। বিনিময়ে আট লক্ষ টাকা তাঁর ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ থাকায় তাঁর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এক ঘণ্টার মধ্যে দিল্লিতে আসতে হবে, না হলে কলকাতা পুলিশ তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করবে। এই আতঙ্কে গ্রেপ্তারি এড়াতে তিনি ৪৮ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন প্রতারকদের।
প্রতারিত রেলের এই প্রাক্তন আধিকারিকের বাড়ি নাগেরবাজার থানার এম সি গার্ডেন রোডে। স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা। বড়ো মেয়ে ইংল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার ল’ নিয়ে পড়ছেন। ছোটো মেয়ের বয়স ১৫ বছর। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ওই ব্যক্তির কাছে ফোন আসে। সিবিআই আধিকারিকের পরিচয় দিয়ে বলা হয়, তাঁর নামে তোলা সিম কার্ড দিল্লি বিস্ফোরণে ব্যবহার করা হয়েছে। জঙ্গিদের সিম দিয়ে সহায়তা করার জন্য তাঁর অ্যাকাউন্টে আট লক্ষ টাকা ঢুকেছে। তদন্তে উঠে আসা তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে তাঁর নামে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে। ভুয়ো ওয়ারেন্টের কপিও পাঠানো হয়। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, এক ঘণ্টার মধ্যে দিল্লিতে হাজিরা দিতে হবে। তা না হলে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ এসে তাঁকে গ্রেপ্তার করবে। এমনকি, তাঁর স্ত্রী ও মেয়েদের গ্রেপ্তারের হুমকিও দেওয়া হয়। এই কথা শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বৃদ্ধ। এরপর বলা হয়, আপনাকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হল। ভিডিও কলে ভুয়ো থানা, সিবিআই আধিকারিক ও নানা নথি দেখানো হয়। শেষে বলা হয়, গ্রেপ্তারি এড়াতে হলে ফাইন দিতে হবে। অ্যাকাউন্টের সমস্ত টাকা জমা করতে হবে। তদন্ত শেষে কোর্ট ও আরবিআইয়ের ছাড়পত্র পাওয়ার পর সামান্য কিছু ফাইন কেটে বাকি টাকা ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এই কথা শুনে পরিবারের সম্মান রক্ষায় ওই ব্যক্তি ব্যাংকে গিয়ে আরটিজিএসের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে শুরু করেন। প্রথম আরটিজিএসের পর ব্যাংককর্মীরা তাঁর কাছে জানতে চান, কাকে, কেন টাকা পাঠাচ্ছেন? পরপর ডিজিটাল অ্যারেস্টের ঘটনায় সতর্ক নাগেরবাজার থানা সমস্ত ব্যাংকে এ নিয়ে নির্দেশিকা পাঠিয়েছিল। আতঙ্কিত ওই বৃদ্ধ বিষয়টি গোপন রাখতে ব্যাংক কর্মীদের বলেন, আমি আমার মেয়ের কাছে টাকা পাঠাচ্ছি। আপনাদের সমস্যা কোথায়? এর মধ্যে ছোটো মেয়ে বিষয়টি জেনে ইংল্যান্ডে থাকা দিদিকে ইনস্টাগ্রামে বিষয়টি জানায়। এরপর তিনি বাড়িতে ফোন করে সাইবার প্রতারণার বিষয়টি বলেন। তিনি কার্যত ধমক দিয়েই বাবাকে সোমবার নাগেরবাজার থানায় পাঠান। এরপর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়।