Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আমানতকারীদের কোটি টাকা তছরুপে ডাকঘরের প্রাক্তন পোস্টমাস্টার গ্রেপ্তার

গ্রাহকদের টাকা তছরুপের ঘটনায় রিজেন্ট এস্টেট পোস্ট অফিসের প্রাক্তন পোস্টমাস্টারকে গ্রেপ্তার করল লালবাজার।

আমানতকারীদের কোটি টাকা তছরুপে  ডাকঘরের প্রাক্তন পোস্টমাস্টার গ্রেপ্তার
  • ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গ্রাহকদের টাকা তছরুপের ঘটনায় রিজেন্ট এস্টেট পোস্ট অফিসের প্রাক্তন পোস্টমাস্টারকে গ্রেপ্তার করল লালবাজার। অভিযুক্ত পোস্টমাস্টার দিলীপকুমার জানাকে শুক্রবার রাতে সোনারপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ, এক এজেন্টের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ১০ কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ রয়েছে।

Advertisement

২০২৫ সালের অক্টোবরে যাদবপুর থানায় ৬০-৭০ জন আমানতকারী অভিযোগ করেন, রিজেন্ট এস্টেট পোস্ট অফিসে টাকা রেখে প্রতারিত হয়েছেন তাঁরা। প্রাথমিকভাবে প্রতারণার অঙ্ক ছিল প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। যাদবপুর, রিজেন্ট পার্ক এলাকার অনেকে রিজেন্ট পার্ক পোস্ট অফিসে মান্থলি ইনভেস্টমেন্ট স্কিম, রেকারিং সহ বিভিন্ন স্কিমে টাকা রেখেছিলেন। পোস্ট অফিস থেকে বিভিন্ন সার্টিফিকেটও কিনেছিলেন আমানতকারীরা। ‘ম্যাচুইরিটি’র সময় তাঁরা জানতে পারেন, টাকা জমা পড়েনি! পোস্ট অফিসের নকল স্ট্যাম্প এবং সিল ব্যবহার করে তাঁদের পাসবুক ও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে । যাদবপুর থানা প্রতারণা, জালিয়াতি সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে। এফআইআরে নাম ছিল তদানীন্তন পোস্টমাস্টার দিলীপকুমার জানার। 
তদন্তে জানা যায়, এই আমানতকারীরা লোকেশ করঞ্জয় নামে এক এজেন্টের মাধ্যমে টাকা জমা করতেন। ২০২৪ সালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার ছেলে সিদ্ধার্থ আমানতকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলে, বাবার কাজগুলি এখন সে দেখছে। নিজেকে পোস্ট অফিসের এজেন্ট বলে পরিচয় দেয়। আমানতকারীরা তাকে বিশ্বাস করে বিনিয়োগের জন্য চেক তুলে দেন। অভিযোগ, সেই চেক পোস্ট অফিসে জমা না করে নিজের অ্যাকাউন্টে ফেলেছে সিদ্ধার্থ। এভাবে সে সাড়ে তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। অক্টোবর মাসে তাকে গ্রেপ্তার করে যাদবপুর থানা। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, গোটা প্রক্রিয়ায় রিজেন্ট এস্টেট পোস্ট অফিসের তদানীন্তন পোস্টমাস্টার জড়িত। ধৃত এজেন্ট জাল পাসবুক তৈরি করে পোস্ট অফিসে নিয়ে যেত। তারপর পোস্ট অফিসের স্ট্যাম্প ও সিল মারা হত। ওই ডাকঘরে বসেই এই কাজ সারত অভিযুক্ত। বিষয়টি আগাগোড়া জানতেন পোস্টমাস্টার। আমানতকারীদের নকল পাসবুক ও সার্টিফিকেট ইস্যু করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। এই কাজে সিদ্ধার্থকে সাহায্য করার বিনিময়ে তিনি মোটা টাকার কমিশন পেয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রতারণার অঙ্ক দশ কোটিতে ছাড়িয়ে যায়। লালবাজারের গোয়েন্দারা আলিপুরে সুপারিন্টেনডেন্ট অফ পোস্টমাস্টারের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে ভুয়ো পাসবুক, আমানতকারীদের চেক সহ বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করেন। বর্তমানে এখানেই পোস্টিং রয়েছেন অভিযুক্ত পোষ্টমাস্টার। তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন, এজেন্টের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে আমানতকারীদের টাকা হাতিয়েছেন পোস্টমাস্টার। এরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। হাতানো টাকা তিনি কোথায় সরিয়েছেন, জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ