সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: অভিযোগ হওয়ার প্রায় দু’মাস পর গ্রেপ্তার করা হল তারকেশ্বরের প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা ঋতব্রত তৃণমূলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উত্তম কুণ্ডুকে। বুধবার রাতে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। বৃহস্পতিবার চুঁচুড়া আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁর জামিনের আরজি মঞ্জুর করেন।
উত্তম কুণ্ডুর বিরুদ্ধে কলকাতার ব্যবসায়ী রাজেশ আগরওয়ালের জমি লুট, ৪০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া সহ আর্থিক প্রতারণা, জোর করে ফ্ল্যাট দখল ও অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই পলাতক ছিলেন উত্তম কুণ্ডু। রাজ্যে পালাবদলের পর গত ২৫ জুন উত্তম কুণ্ডুর বিরুদ্ধে তারকেশ্বর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন কলকাতার প্রোমোটার রাজেশ আগরওয়াল। উত্তম গা-ঢাকা দিয়ে থাকাকালীন ঋতব্রত তৃণমূলে যোগ দেন এবং ওই গোষ্ঠীর আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্ব পান।
অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার উপর ক্ষোভ উগরে দিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই থানার সামনে জমায়েত হতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। তবে জমায়েতের আশঙ্কা করে ভোররাতেই তারকেশ্বর থানা থেকে ধৃতকে নিয়ে যাওয়া হয় কোর্টের উদ্দেশ্যে। আদালত চত্বরে উত্তম কুণ্ডু সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি গণেশ চক্রবর্তী বলেন, তারকেশ্বরে সব থেকে বেশি অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে, তাঁকে গ্রেপ্তার করতে দু’মাস সময় লেগে গেল। কোর্টে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জামিনও পেয়ে গেলেন তিনি! অদ্ভুত ব্যাপার! তারকেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে ঘোরানো হয়েছিল। তারকেশ্বরের মানুষ চেয়েছিলেন, উত্তমকেও একইভাবে ঘোরানো হোক। এই ধরনের দ্বিচারিতার পিছনে নিশ্চয়ই কোনো চক্র কাজ করছে বলে আমার মনে হয়। সাধারণ মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা চলছে। কেউ বা কারা ধৃত উত্তমকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।