সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: প্রায় এক কোটি ২২ লক্ষ টাকার তছরুপের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন তিওরখালি সমবায় ব্যাঙ্কের প্রাক্তন ম্যানেজার আব্দুল সহিদ সরকার ম্যানেজার। গত ১০ মে তিওরখালি সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মিরাজুল সেখ নবদ্বীপ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে পুলিস তিওরখালি এলাকা থেকে আব্দুল সহিদকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার নবদ্বীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে তিনদিনের পুলিস হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পর্ষদ সভাপতি মিরাজুল সেখের অভিযোগ, গত ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত আব্দুল সহিদ সমিতির ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি ব্যাঙ্কের আর্থিক ও প্রশাসনিক নিয়মাবলি লঙ্ঘন করে একাধিক অনিয়ম করেছেন। ২০১৬ সালের ৩০ মার্চের পর থেকে আর্থিক লেনদেনের কোনও সঠিক হিসাব বা খতিয়ান খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকী তিনি যেসব অর্থ তুলেছেন, সেগুলির ব্যবহার সংক্রান্ত কোনও রেকর্ড সংস্থার নথিতে নেই। বারবার লিখিতভাবে চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও তিনি কোনও সদুত্তর দেননি এবং কোনও সহযোগিতা করেননি। ভুয়ো ঋণ বিতরণ ও গ্রাহক প্রতারণার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর বহু সদস্য অভিযোগ করেন, তাঁদের নামে ভুয়ো ঋণ রেকর্ড করা হয়েছে, অথচ তাঁরা কখনও এমন ঋণের জন্য আবেদন করেননি কিংবা কোনও নথিপত্র জমা দেননি। এই প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ম্যানেজার সমবায়ের প্যাডে লিখিতভাবে জানান, তিনি ১১টি ভুয়ো কৃষিঋণ মঞ্জুর করেছেন, যার বাস্তবে কোনও অস্তিত্ব নেই। এই ঋণগুলি ২০১৯ সালে জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধিত করা হয়। এ সমস্ত অনিয়মের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তাদের নির্দেশে বর্তমান পর্ষদ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের ১৬ মে থেকে তিওরখালি সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি কৃষকদের বিভিন্ন আর্থিক পরিষেবা প্রদান করে আসছিল। যদিও ২০১৯ সালের পর বিভিন্ন সমস্যার কারণে সমবায় ব্যাঙ্কের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে নবদ্বীপের বিধায়কের উদ্যোগে ফের সমিতির কাজকর্ম চালু হয়।



