ঢাকা: একই অপরাধে অভিযুক্ত ছিলেন তিনজন। অথচ বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফাঁসির সাজা শোনালেও, তৃতীয় অভিযুক্ত আবদুল্লাহ আল-মামুনকে মাত্র পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। কারণ, হাসিনার বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হতে রাজি হয়েছিলেন পুলিশের প্রাক্তন আইজি। হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। আসাদুজ্জামানও পলাতক। একমাত্র মামুনকেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছিল মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু, রাজসাক্ষী হওয়ার সুবাদে আপাতত ফাঁসির সাজা এড়িয়ে গিয়েছেন প্রাক্তন পুলিশকর্তা। যদিও এই নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে বাংলাদেশের অন্দরে। শুধুমাত্র হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্তে সহযোগিতার জন্য এত কম সাজা দেওয়া হবে কেন? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে চলতি বছরে তিনজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবিউনালে বিচার শুরু হয়। জুলাইয়ে মামুনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়। সেই সময় মামুন আদালতে জানান, তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগের দায় স্বীকার করছেন তিনি। একইসঙ্গে হাসিনা ও আসাদুজ্জমান কীভাবে ‘অপরাধে’র সঙ্গে জড়িত, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদালতকে দিতেও রাজি হন মামুন। সেপ্টেম্বরে ট্রাইবিউনালে রাজসাক্ষী হিসেবে মামুন জানান, গত বছর জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনের সময় যে ‘গণহত্যা’ চালানো হয়েছিল, তার জন্য হাসিনা ও আসাদুজ্জামানই দায়ী। তাঁদের সরাসরি নির্দেশে গুলি চালিয়ে আন্দোলনকারীদের হত্যা করা হয়। আন্দোলনে মৃতদের পরিবারের কাছে ক্ষমাও চান মামুন। যদিও তাঁর এত কম সাজা হওয়ায় খুশি নয় মৃত আন্দোলনকারীদের পরিজনের একাংশ। তাঁদের একজন সোমবার রায় ঘোষণার পরে বলেন, ‘হাসিনা ও আসাদুজ্জমানকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হল। কিন্তু মামুন কপ্টার থেকে আমাদের সন্তানদের উপর গুলি চালিয়েছিল। তার মাত্র পাঁচ বছরের জেল মেনে নেওয়া যায় না।’ আন্দোলনে নিহত ছাত্র মীর মুগ্ধের ভাই তথা বিএপি নেতা মীর স্নিগ্ধ জানিয়েছেন, তাঁরা মামুনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের জন্য আদালতে আবেদন করবেন।