নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রযুক্তির হাত ধরে আমূল বদল এসেছে আর্থিক লেনদেনে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সাইবার প্রতারণা। প্রতারকদের থাবা থেকে রেহাই পাচ্ছে না কেউ। এবার তাদের শিকার প্রাক্তন এক ব্যাঙ্ক ম্যানেজার। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট দেখে ক্রেডিট কার্ড করাতে গিয়ে তিনি খোয়ালেন সাড়ে চার লক্ষ টাকা। তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ওই টাকা তুলে নেয় জালিয়াতরা। প্রাক্তন ওই ব্যাঙ্ককর্তা কাশীপুর থানায় অভিযোগ করলে পুলিস সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের মধ্যে একজন অ্যাপ-বাইক চালকও রয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ব্যাঙ্ককর্তার ক্রেডিট কার্ড ছিল না। কর্মজীবনে ক্রেডিট কার্ড করার কথা কখনও ভাবেননি। অবসরের পর তিনি জানতে পারেন, ক্রেডিট কার্ড থাকলে বিশেষ কিছু ছাড় পাওয়া যায়। ফেসবুক ঘাঁটতে গিয়ে তাঁর নজরে আসে, একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক সহজ শর্তে ক্রেডিট কার্ড করানোর সুযোগ দিচ্ছে। সেখানে থাকা মোবাইল নম্বরে ফোন করেন। পুরোটাই যে আসলে সাইবার প্রতারকদের পাতা ফাঁদ, ঘুণাক্ষরেও টের পাননি তিনি। ফোনে যোগাযোগ করলে নিজেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের কর্মী পরিচয় দিয়ে এক যুবক বলে, ‘আপনার কোথাও যাওয়ার দরকার নেই। সমস্ত নথি মোবাইলে পাঠিয়ে দিলেই হবে।’ সেই কথা মতো প্রাক্তন ওই ব্যাঙ্ককর্তা আধার, প্যান সহ অন্যান্য নথি পাঠিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর মোবাইলে একটি এসএমএস ঢোকে। তিনি বুঝতে পারেন, অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়ে চার লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। তখন তিনি পুলিসের দ্বারস্থ হন।
তদন্তে নেমে পুলিস প্রথমে ওই ব্যাঙ্ককর্মীর অ্যাকাউন্ট থেকে কোন কোন অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে, তা চিহ্নিত করে। দেখা যায়, সবগুলি কমিশনের বিনিময়ে ভাড়া নেওয়া অ্যাকাউন্ট। এরপর নির্দিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে চক্রের পান্ডা সহ সাত জনকে ধরা হয়। তাদের জেরা করে জানা যায়, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের মাধ্যমে তারা প্রতারণার এই কারবার চালাচ্ছিল। নথি হাতিয়ে তারা ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে নিত। প্রতারণার টাকা জমা হতো ভাড়া নেওয়া একাধিক অ্যাকাউন্টে।