নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ডিজিটাল অ্যারেস্টের খপ্পরে পড়ে বিপুল অঙ্কের টাকা খোয়ালেন বৃদ্ধ। ঘটনাটি দমদমের। দুষ্কৃতীরা ভয় দেখিয়ে ওই বৃদ্ধকে টানা ২২ দিন গৃহবন্দি করে রাখে। তারপর খেপে খেপে ৫৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ। প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝে রবিবার তিনি দমদম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ওই বৃদ্ধ স্টেট ব্যাঙ্কের প্রাক্তন কর্মী। বয়স প্রায় ৭০। বাড়িতে স্ত্রী রয়েছেন। ছেলে-মেয়েরা অন্যত্র থাকেন। দম্পতির একা থাকার সুযোগে প্রতারকরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
বিগত দিনে শহরে বহু ডিজিটাল অ্যারেস্টের ঘটনা ঘটেছে। শুধু দমদম থানা এলাকায় গত কয়েক মাসে তিনটির বেশি ডিজিটাল অ্যারেস্টের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, সচেতনতা বাড়াতে পুলিস ও প্রশাসনকে আরও বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। প্রতারিত হওয়া ওই বৃদ্ধের বাড়ি দমদমের অরবিন্দ সরণি। একটি আবাসনে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে থাকেন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২ আগস্ট প্রতারকরা তাঁকে ফোন করে। নিজেদের মুম্বই পুলিসের আধিকারিক পরিচয় দেয়। তারা জানায়, মুম্বইয়ের কোলাবা থানায় ওই বৃদ্ধের নামে এফআইআর দায়ের হয়েছে। কারণ, তাঁর আধার নম্বর ব্যবহার করে সিমকার্ড কেনা হয়েছে। সেই সিমকার্ড ব্যবহার করে প্রচুর মানুষকে প্রতারণা করে আয় করা হয়েছে বিপুল অর্থ। মানি লন্ডারিং কেসে তাঁর যোগ পাওয়া গিয়েছে। এরপর আসতে শুরু করে একের পর এক ফোন। সিবিআই, ইডি অফিসার সেজে ভিডিও কল করা হয়। সেখানে পুলিসের পোশাক পরা প্রতারকরা তাঁকে হুঁশিয়ারি দিতে থাকে। বলা হয়, এই বয়সে জেল যাত্রা কেউ আটকাতে পারবে না। পরক্ষণেই আবার ইডি অফিসার সেজে একজন ফোন করে বলে, আমরা বিষয়টি মিটমাট করে দেব। কিছু ফাইন দিতে হবে। তবে, আপনি এখন হাউস অ্যারেস্ট হয়ে রয়েছেন। কোনওভাবে কাউকে ফোন করা বা বাড়ির বাইরে বের হলে আপনাকে গ্রেপ্তার করা হবে। রাজ্য পুলিসের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়ে গিয়েছে। মোবাইল ক্যামেরা সব সময় অন রাখুন। হোয়াটসঅ্যাপে নজরদারির কথা বলে, ওই বৃদ্ধ দম্পতিকে ভয় দেখিয়ে একেবারে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় প্রতারকরা। ২২ দিন ঘরে বন্দি করে রাখে। দফায় দফায় তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ৫৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে এক আত্মীয়ের পরামর্শে ওই বৃদ্ধ দমদম থানায় এসে ২৪ তারিখ থানায় সমস্ত ঘটনা জানান ও এফআইআর দায়ের করেন।
কিন্তু নিজে ব্যাঙ্কের প্রাক্তন কর্মী হয়েও প্রতারকদের খপ্পরে এভাবে পড়বেন তা স্বপ্নেও আশা করেননি ওই বৃদ্ধ। তাই মানসিকভাবে তিনি অনেকটাই ভেঙে পড়েছেন।
জানা গিয়েছে, গত এপ্রিল মাসে দমদম থানা এলাকার এক বৃদ্ধকে এইভাবে ডিজিটাল অ্যারেস্টের নাম করে প্রতারকরা প্রায় ৫৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। একটা বিষয় পুলিস প্রায় নিশ্চিত, খুঁজে খুঁজে বৃদ্ধদেরই টার্গেট করছে প্রতারকরা। শহরের প্রবীণদের নিয়ে এই বিষয়ে কর্মশালাও করা হয় মাঝেমধ্যে। পুলিসের কথায়, এত প্রচার সত্ত্বেও মানুষ কীভাবে বারবার ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদে পড়ছেন, সেটাই বিস্ময়ের।