নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বিশ্বকর্মা পুজো। আকাশে রং-বেরংয়ের ঘুড়ির মেলা। পেটকাটি, চাঁদিয়ালের তুমুল যুদ্ধ। তাতেই মাতোয়ারা আট থেকে আশি। বারাকপুরের মোহনপুর এলাকার এই উৎসবমুখর পরিবেশই মুহূর্তে বদলে গেল বিষাদে। কারণ এখানকার বাসিন্দা এক প্রাক্তন সেনাকর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু! ঘুড়ির চীনা মাঞ্জার সুতো প্রাণ কেড়ে নেয় তাঁর। বুধবার দুপুরে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের লাইটপোস্টে ঝুলে থাকা ঘুড়ির মাঞ্জায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম গৌতম ঘোষ (৪১)। তাঁর আদি বাড়ি নদীয়ায়। বর্তমানে থাকতেন মোহনপুর এলাকায়। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি কলকাতা এয়ারপোর্টে চাকরি করতেন। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে শুধু শহরতলি নয়, গত কয়েক বছরে কলকাতা শহরেও চীনা মাঞ্জার কারণে একের পর এক দুর্ঘটনা, এমনকি মৃত্যুর উদাহরণও রয়েছে। তারপরও এই মারণ সুতো ব্যবহারে রাশ টানা যাচ্ছে না কেন, উঠছে সেই প্রশ্ন।
অন্যান্য দিনের মতো এদিনও গৌতমবাবু বারাকপুর থেকে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ধরে এয়ারপোর্ট যাচ্ছিলেন। ঝাঁচকচকে এক্সপ্রেসওয়েতে বাইকের গতিও বেশ ভালো ছিল। রহড়া থানার তুলসিকাঁটা এলাকায় রাস্তার ধারের লাইটপোস্ট থেকে একটি কাটা ঘুড়ি ঝুলছিল। দুপুর ১.৩০টা নাগাদ সেই ঘুড়ির চীনা মাঞ্জার সুতো তাঁর গলায় লাগে। তিনি বাইক থেকে ছিটকে পড়েন। গলা কেটে যায়। রাস্তায় প্রায় ১০মিনিট ওই অবস্থায় পড়েছিলেন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে বন্দিপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতালের তরফে জানানো হয়, গলা কেটে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্ষক্ষরণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর চীনা মাঞ্জা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ চরমে ওঠে। গৌতমবাবুর সহকর্মী রাজু সমাদ্দার বলেন, ‘উনি বাইকে এয়ারপোর্ট যাচ্ছিলেন। এটুকু সময়ের মধ্যে এত বড় একটা ঘটনা ঘটে যাবে, ভাবতে পারিনি।’
বারাকপুর কমিশনারেটের অবশ্য দাবি, ট্রাফিক পুলিশের তরফে আগেই সচেতনতা প্রচার করা হয়েছিল। স্থানীয় বন্দিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান প্রসেনজিৎ সাহা বলেন, ‘উৎসবের দিনে এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা বাকরুদ্ধ। তুলসিকাঁটা এলাকায় ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের সুতো বিক্রি বন্ধ করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা উচিত পুলিশ-প্রশাসনের।’