নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘যুবসাথীর ফর্ম কি দিচ্ছে? কোন রুমে গিয়ে কথা বলতে হবে?’ ধর্মতলায় কলকাতা পুরভবনে এসে কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষীকে প্রশ্ন করলেন এক যুবক। নিরাপত্তারক্ষী জানিয়ে দিলেন, ‘এখন কিছু দেওয়া হচ্ছে না। ফর্ম দেওয়া শুরু হলে নিজের ওয়ার্ডেই জানতে পারবেন। কোথা থেকে দেবে, কী কী নথি লাগবে, কোথায় জমা করতে হবে, সবটা জানিয়ে দেওয়া হবে।’
একজন-দু’জন নয়। গত তিন-চার দিনে পুরসভার কেন্দ্রীয় ভবনে এসে এমন অন্তত জনা তিরিশেক মানুষ ‘যুবসাথী’র খোঁজ নিয়েছেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্য সরকারের বাজেট পেশ হয়েছে। তাতে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাঁচ বছর মাসে মাসে দেড় হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রকল্প ঘোষিত হয়েছে। এই প্রকল্পের নামই ‘যুবসাথী’। ঘোষণার পর থেকে রাজ্যজুড়ে কমবয়সিদের মধ্যে এনিয়ে উৎসাহ লক্ষ্য করা গিয়েছে। কখন, কীভাবে আবেদন করা যাবে, তার খোঁজখবর শুরু হয়ে গিয়েছে। কলকাতা পুরসভা এলাকাও তার ব্যতিক্রম নয়। সেই সূত্রেই কেউ না কেউ পুরসভায় এসে এ সম্পর্কে খোঁজখবর করছেন। শুধু কেন্দ্রীয় পুরভবন নয়, স্থানীয় ওয়ার্ড অফিস থেকে শুরু করে বরো অফিসে গিয়েও অনেকে এ বিষয়ে খবর নিচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। ফোনের পর ফোন পাচ্ছেন কাউন্সিলাররাও।
তবে মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রত্যেক বিধানসভায় ক্যাম্প করে ‘যুবসাথী’র আবেদন জমা নেওয়া হবে। ঘোষণার পর থেকে বিষয়টি জনগণের মধ্যে যে তুমুল আগ্রহ তৈরি করেছে, তার ফলে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। কলকাতা পুরসভার একাধিক কাউন্সিলার জানাচ্ছেন, অনেকে ওয়ার্ড অফিসে চলে আসছেন সরাসরি। কেউ কেউ ফোন করে ‘যুবসাথী’ সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন। ভবানীপুর বিধানসভার অন্তর্গত আলিপুর অঞ্চল ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে। সেখানকার কাউন্সিলার দেবলীনা বিশ্বাস বলেন, ‘অনেকে ফোন করছেন। ওয়ার্ড অফিসেও চলে আসছেন। আমরা বলেছি, এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দেশিকা আসেনি। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যখন নিশ্চয়ই মিলবে। আমাদের কাছে নির্দেশিকা আসা মাত্র জানিয়ে দেওয়া হবে, কবে, কোথায় ক্যাম্প হবে। সেখানে কী কী নথি লাগবে, তাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। এখন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য মাইক ব্যবহার সম্ভব নয়। তাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে জানাতে হবে।’
এদিকে, বুধবার পুরসভায় মেয়র পরিষদের বৈঠকে আধিকারিকদের ‘যুবসাথী’ সংক্রান্ত ক্যাম্পের বিষয়ে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। কারণ, ‘দুয়ারে সরকার’ কিংবা ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’-এর মতো এক্ষেত্রেও শহরজুড়ে শিবির পরিচালনা করতে হবে পুরসভাকেই। এক আধিকারিক বলেন, ‘মেয়র প্রাথমিকভাবে আমাদের জানিয়ে রেখেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত নবান্ন থেকে কোনো এসওপি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর আসেনি। ক’টি ক্যাম্প করতে হবে, কীভাবে হবে, তার কোনো রূপরেখাও আমাদের কাছে নেই।’ তাঁর মতে, কলকাতার ক্ষেত্রে বিধানসভা ভিত্তিক একটি মাত্র ক্যাম্প হলে সমস্যা। প্রচুর লোকজন আসবেন। তাই এই শিবিরগুলি বরোভিত্তিক হলে ভালো হয় বলে মনে করছেন তিনি।