সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: দিদি ফর্ম ফিল-আপ ভুল হলে কি ফর্ম বাতিল হয়ে যাবে? আপনারা বুঝিয়ে চলে যাওয়ার পর যদি ফর্ম ফিল-আপ করতে গিয়ে ভুল হয়, তখন কী করব? বিএলও’রা বাড়ি বাড়ি ইনিউমারেশন ফর্ম পৌঁছে দেওয়ার পর শ্যামপুরের গীতা বিশ্বাস, উদয়নারায়ণপুরের ধনঞ্জয় পোড়েল, কিংবা আমতার সংগীতা নবর্জার মতো ভোটাররা ফর্ম পূরণের খুঁটিনাটি দিক নিয়েই বেশি চিন্তিত। তবে ভোটারদের চিন্তা দূর করতে আসরে নেমেছে শাসকদল থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। কেউ অঞ্চলে অঞ্চলে শিবির করে ভোটারদের ফর্ম ফিল-আপে সাহায্য করছে, কোনওপক্ষ আবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ফর্ম ফিল-আপে সাহায্য করছে। এক কথায়, দুয়ারে ইনিউমারেশন ফর্ম ফিল-আপের দৌড়ে শামিল সব রাজনৈতিক দল। এই দৌড়ে হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় বিরোধী দলগুলিকে অনেকটাই পিছনে ফেলে দিয়েছে তৃণমূল। যদিও বিরোধীদের দাবি, তৃণমূল শিবির করে ভোটারদের সাহায্য করছে, তাই তাদের কার্যকলাপ সবার নজরে পড়ছে। আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম ফিল-আপে করাচ্ছি বলে আমাদের কেউ নজর করছে না।
রাজ্যে এসআইআর শুরু হওয়ার পরেই বিএলও’রা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইনিউমারেশন ফর্ম পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন। অনেক ভোটারই এই ফর্ম পেয়ে গিয়েছেন, আবার অনেকের কাছে এখনও পৌঁছয়নি। ফর্ম হাতে পেলেও গ্রামীণ ভোটারদের একাংশ ফিল-আপ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। অনেকেরই ধারণা, একটু ভুলচুক হলে এই ফর্ম বাতিল হয়ে যেতে পারে। যদি বাতিল হয়ে যায়, তাহলে কি ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা যাবে? তাঁদের এই চিন্তা দূর করতে ময়দানে নেমেছে রাজনৈতিক দলগুলি। বেশিরভাগ জায়গাতেই এই কাজে তৃণমূল কর্মীদের দেখা গেলেও বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীদের সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে হাওড়া গ্রামীণ জেলা তৃণমূলের সভাপতি বিধায়ক অরুণাভ সেন বলেন, যারা সরকারে আসার স্বপ্ন দেখছে, ৮০ শতাংশ বুথে তাদের কোনও লোক নেই। এই কাজের জন্য যে সাংগঠনিক শক্তি দরকার, সেটা একমাত্র তৃণমূলেরই আছে। এসআইআর করে তৃণমূলকে বিপাকে ফেলতে গিয়ে বিজেপি নিজেই নিজের বিপদ ডেকে এনেছে। তৃণমূল মানুষের পাশে সব সময় থাকে বলে তাঁরাও ফর্ম ফিল-আপের জন্য আমাদের কাছে ছুটে আসছেন।
তৃণমূলের এই দাবি মানতে নারাজ সিপিএমের হাওড়া জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সাবিরউদ্দিন মোল্লা। তিনি বলেন, ফর্ম ফিল-আপের প্রশ্নে তৃণমূলের থেকে আমরা অনেকটাই এগিয়ে আছি। আমরা মানুষের বাড়ি গিয়ে ফর্ম ফিল-আপ করতে সাহায্য করছি। তাই আমাদের দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। বিজেপির হাওড়া গ্রামীণ জেলার সাধারণ সম্পাদক রমেশ সাঁধুখা বলেন, আমাদের কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই কাজ করছেন। শাসকদলের চোখরাঙানির ভয়ে দলীয় কর্মীরা প্রকাশ্যে আসছেন না।