সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: সাফারি রুটের ঝোপঝাড় কাটা, রাস্তায় খানাখন্দ ভরাট করা থেকে শুরু করে নজরমিনার সাফসুতরো করা। সমস্ত প্রস্তুতি শেষ। বন্যপ্রাণীদের প্রজননের কারণে তিন মাস বন্ধ থাকার পর আজ, বুধবার জঙ্গল খুলছে। জঙ্গল খুললেও দুর্গাপুজোর আগে ডুয়ার্সের হোটেল, লজ, রিসর্ট ও হোমস্টেগুলিতে আহামরি বুকিং নেই। তবে পুজো থেকেই ঠাসা বুকিং ডুয়ার্সে।
পুজো থেকে ডুয়ার্সের হোটেল, লজ, রিসর্ট ও হোমস্টেগুলিতে একেবারে ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই অবস্থা। নতুন পর্যটন মরশুমেও অবশ্য কোনো বদল নেই। তবে পর্যটন সংস্থাগুলির দাবি, এই পর্যটন মরশুম থেকে যদি জিপসি সাফারির বুকিং অনলাইনে করা হত, তাহলে পুজোয় এবার পর্যটকদের আরও ঢল নামত। চিলাপাতা জিপসি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিমল রাভা বলেন, আমরা কবে থেকে জিপসি সাফারির অনলাইন বুকিং চালু করার দাবি জানিয়ে আসছি। জিপসি সাফারির অনলাইন বুকিং থাকলে হয়তো নতুন পর্যটন মরশুমে আরও ট্যুরিস্ট পেতাম। তবে আমরা আশা ছাড়ছি না। রাজ্য সরকার হয়তো দ্রুত আমাদের দাবিতে সিলমোহর দেবে।
একই বক্তব্য ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সম্পাদক দিব্যেন্দু্ দেবেরও। দিব্যেন্দুবাবুর সংযোজন, পুজোর আগে আহামরি কিছু বুকিং নেই। আসলে পুজো থেকেই ডুয়ার্সে ঠাসা বুকিং থাকে আমাদের। এবারও পুজোতে বুকিং হাউসফুল।
এদিকে, বর্ষায় হলং নদীর উপর কাঠের সেতুটি ভেসে গেলেও আজও সেটি তৈরি হয়নি। হলং নদীর উপর ওই কাঠের সেতু পেরিয়েই মাদারিহাটে পর্যটন দপ্তরের জলদাপাড়া ট্যুরিস্ট লজে যেতে হয় পর্যটকদের। কিন্তু, সেতুটি না থাকায় ওই লজের বুকিং বর্তমানে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে চেষ্টা করেও দেশ-বিদেশের পর্যটকরা বুকিং করতে পারছেন না। ফলে রাজস্বে ক্ষতি হচ্ছে পর্যটন দপ্তরের। তবে জলদাপাড়া ট্যুরিস্ট লজের ম্যানেজার দেবাশিস সরকার জানিয়েছেন, শুখা মরশুমে নভেম্বর মাস থেকে তাঁদের অনলাইন বুকিং চালু করা হবে। আসলে হলং নদীতে সেতু না থাকায় পর্যটকদের বিপদ এড়াতেই আপাতত আমাদের লজের বুকিং স্থগিত রাখা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের গোরুমারা, জলদাপাড়া ও বক্সা তিন জঙ্গলেই জিপসি সাফারি হয়। জলদাপাড়ায় ২৬টি, চিলাপাতায় ন’টি ও বক্সায় ১৪টি জিপসি সাফারি করে। হাতি সাফারি হয় শুধু গোরুমারা ও জলদাপাড়ার জঙ্গলে। গোরুমারায় ৭২টি জিপসি গাড়ি আছে। হাতি সাফারিতে দু’টি হাতি আছে। গোরুমারার তুলনায় জলদাপাড়ায় হাতি সাফারিতে হাতির সংখ্যা বেশি। জলদাপাড়ায় এবারও আটটি হাতিকে সাফারির কাজে লাগানো হবে। এরমধ্যে হলং রাইডিং পয়েন্টে ছ’টি ও শালকুমার পয়েন্টে দু’টি হাতি নিয়ে সাফারি হবে। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের এক আধিকারিক বলেন, বুধবার জঙ্গল খুলছে। তারজন্য পর্যটকদের অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।