নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বনকর্মীর সংখ্যা কম। ফলে সর্বত্র তাঁদের পক্ষে পাহারা দেওয়া সম্ভব হয় না। স্বাভাবিকভাবে রাতবিরেতে কোথাও হাতির হামলা হলে অনেকক্ষেত্রে বনকর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছতে সময় লেগে যায়। ততক্ষণে হাতি যা ক্ষতি করার করে দেয়। এমনকী হাতির হামলায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে লোকালয়ে হাতির হামলা ঠেকাতে জঙ্গল লাগোয়া এলাকার বাসিন্দাদের নিয়েই এবার স্কোয়াড গড়ার কাজে জোর দিল বনদপ্তর। এজন্য তাঁদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে হাতি তাড়াতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছনো পর্যন্ত বাসিন্দারা যাতে হাতিকে ঠেকিয়ে রাখতে পারেন, সেই লক্ষ্যে এই ভলান্টিয়ারি এলিফ্যান্ট স্কোয়াড গড়া হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) ভাস্কর জেভি। তিনি বলেন, জলপাইগুড়ি জেলায় বাসিন্দাদের নিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ৬০টি স্কোয়াড গড়া হয়েছে। এরমধ্যে বৈকুণ্ঠপুর ডিভিশনে ১২টি স্কোয়াড গড়েছি। হাতি উপদ্রুত এলাকায় এই স্কোয়াড গঠনে জোর দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর ডিভিশনের অধীন গজলডোবা এলাকায় হাতির হামলায় তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এছাড়া জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের রায়পুর চা বাগানে বাইসনের হামলায় মৃত্যু হয় এক বৃদ্ধার। ডুয়ার্সেও বন্যপ্রাণীর হামলায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। তবে হাতির হানায় পরপর মৃত্যুতে জঙ্গল লাগোয়া এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে মারাত্মক ক্ষোভ তৈরি হওয়ায় জলপাইগুড়িতে ছুটে আসেন রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) সন্দীপ সুন্দ্রিয়াল। প্রথমে গজলডোবায় বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এরপর ডুয়ার্সে মূর্তি নদীর ধারে ইনডং এলাকায় যান। সেখানেও এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে লোকালয়ে হাতির হানা ঠেকাতে বনদপ্তর যথাসাধ্য চেষ্টা করবে বলে আশ্বস্ত করেন বনকর্তা।
এরপরই হাতির করিডরে বাসিন্দাদের যাতায়াতের ব্যাপারে সতর্ক করতে মাইকিং শুরু করেছে বনদপ্তর। কয়েকটি জায়গায় ফেন্সিং দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সেইসঙ্গে জোর দেওয়া হয়েছে ভলান্টিয়ারি এলিফ্যান্ট স্কোয়াড গড়ার কাজে। তবে মাঠ থেকে ভুট্টা উঠে যাওয়ায় এবার ধীরে ধীরে লোকালয়ে হাতির হামলা কমবে বলে মনে করছেন বনকর্তারা।
উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) বলেন, ভুট্টার লোভে মে মাসে লোকালয়ে হাতির হানা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। এখন বেশিরভাগ জমি থেকে ভুট্টা তুলে নেওয়া হয়েছে। এবার জঙ্গল ছেড়ে হাতি বেরিয়ে আসার ঘটনা কমবে বলে মনে করছি আমরা।
এদিকে, বন্যপ্রাণ ও মানুষের সংঘাত বৃদ্ধির ঘটনায় উদ্বেগপ্রকাশ করে দু’দিন আগেই উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপালের সঙ্গে দেখা করেন জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্তকুমার রায়। বনদপ্তর কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা জানতে চান তিনি। এনিয়ে উত্তরের মুখ্য বনপাল এদিন বলেন, লোকালয়ে হাতির হামলা নিয়ে কথা বলতে এসেছিলেন সাংসদ। আমরা এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নিয়েছি, তা তাঁকে বলা হয়েছে।