নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বনদপ্তরের তহবিল ভরতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গাছ কাটতে শুরু করেছে। ক্লিয়ার ফিলিং সিস্টেমের আওতায় এবছর বনদপ্তরের বীরভূম ডিভিশনের অধীন মোট ১০০ হেক্টর জমির গাছ কাটা হবে। বিপুল সংখ্যক গাছ পরবর্তীতে ফরেস্ট কর্পোরেশনের মাধ্যমে ই-অকশন করা হবে। স্বাভাবিকভাবেই ক্লিয়ার ফিলিং সিস্টেমের মাধ্যমে এবছর বনদপ্তরের ভাঁড়ারে মোটা অঙ্কের রাজস্ব সংযোজন হতে চলেছে। বনদপ্তরের এক কর্তা জানিয়েছেন, গাছ বিক্রি করে আনুমানিক ১ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। গত বছর এই রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ কোটি টাকা। এবিষয়ে বীরভূম ডিভিশনের ডিএফও রাহুল কুমার বলেন, দপ্তরের নিয়ম অনুসারেই গাছ কাটার কাজ শুরু হয়েছে। সাতটি রেঞ্জ এলাকাতেই এই কাজ চলছে। খুব দ্রুত সেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। গাছ অকশন করে পাওয়া রাজস্বের ৪০ শতাংশ জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হবে। মূলত এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যেই সেই টাকা দেওয়া হয়।
বীরভূম ডিভিশনের অধীন সিউড়ি, দুবরাজপুর, সাঁইথিয়া, রামপুরহাট, মহম্মদবাজার সহ মোট সাতটি রেঞ্জ রয়েছে। সাতটি রেঞ্জ এলাকা মিলিয়ে বীরভূম ডিভিশনে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর বনভূমি রয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ১০০ হেক্টর বনভূমিতে থাকা গাছ কাটার কাজ শুরু হয়েছে। মূলত আকাশমণি গাছ কাটা হবে। বনদপ্তরের তরফে জানা গিয়েছে, দশ বছর বয়সি গাছগুলিই কাটা হচ্ছে। আগামীতে সেগুলি ছোড়া ও গণপুরের ডিপোতে মজুত করে ফরেস্ট কর্পোরেশনের তরফে ই-অকশন করা হবে। দপ্তরের তরফে নির্ধারিত দরে সেগুলি বিক্রি করা হবে। অন্যদিকে যেসব রেঞ্জ এলাকায় গাছ কাটা হচ্ছে, সেখানে পুনরায় গাছের চারা লাগানো হবে।
বনদপ্তরের তরফে জানা গিয়েছে, জেলার সাতটি রেঞ্জের মধ্যে দুবরাজপুরে সব থেকে বেশি পরিমাণ জমিতে গাছ কাটা হবে। সেখানে জমির পরিমাণ প্রায় ৩৫ হেক্টর। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ১০ বছরের ঊর্ধ্বের আকাশমণি গাছ সহ ঝড় কিংবা নানা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গাছগুলিও কেটে ফেলা হবে। পরবর্তীতে ওই ১০০ হেক্টর এলাকায় নতুন করে চারাগাছ লাগানো হবে। সেক্ষেত্রে প্রতি হেক্টরে প্রায় ১৬০০টি করে চারাগাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী বছর ফের ১০ বছর আগে লাগানো আকাশমণি গাছ কাটা হবে।