Bartaman Logo
১৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সড়ক কর্তৃপক্ষের হাতির হানার দাবি নস্যাৎ বনদপ্তরের, ঝাড়গ্রামে মাঝরাতে ভাঙল আন্ডারপাস

ঝাড়গ্রামে মাঝরাতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ আন্ডারপাস। খড়্গপুর-চিচিড়া ৪৯নম্বর জাতীয় সড়কে হাতি পারাপার করার জন্য এই আন্ডারপাস তৈরির কাজ চলছে

সড়ক কর্তৃপক্ষের হাতির হানার দাবি নস্যাৎ বনদপ্তরের, ঝাড়গ্রামে মাঝরাতে ভাঙল আন্ডারপাস
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে মাঝরাতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ আন্ডারপাস। খড়্গপুর-চিচিড়া ৪৯নম্বর জাতীয় সড়কে হাতি পারাপার করার জন্য এই আন্ডারপাস তৈরির কাজ চলছে। মঙ্গলবার রাতে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একাংশ ধসে পড়ার কারণ নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের দাবি, হাতির পালের তাণ্ডবের  জেরে আন্ডারপাসের একাংশ ভেঙে পড়েছে। কিন্তু তা নস্যাৎ করে ঝাড়গ্রাম বনবিভাগ জানিয়েছে, এলাকায় হাতির পাল আসেইনি।ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, মানিকপাড়া রেঞ্জের গুপ্তমণি লাগোয়া জাতীয় সড়ক এলাকায় মঙ্গলবার রাতে হাতির পাল পারাপার করেনি। ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া রেঞ্জের গুপ্তমণি হাতি পারাপারের অন্যতম করিডর। হাতির পাল যাতায়াত করায় মানিকপাড়া রেঞ্জের গুপ্তমণি এলাকায় জাতীয় সড়ক প্রায়দিনই অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে। হাতি পারাপারের সময় রাস্তার দু’পাশে মালবাহী লরি, ট্রাক, দূরপাল্লার বাস দাঁড়িয়ে পড়াই নিয়মে পরিণত হয়েছে। এমনকী, খাবারের সন্ধানে পণ্যবাহী গাড়িতে হাতির হামলার ঘটনাও ঘটছে। রাতে জাতীয় সড়ক পারাপারের সময় হাতির পাল গাড়ির হেডলাইটের আলোয় দিক ভুল করে গ্রামে ঢুকে পড়ছে।

Advertisement

তাই বনদপ্তরের তরফে হাতি-মানুষ সংঘাত কমাতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছে আন্ডারপাস তৈরির প্রস্তাব পাঠানো হয়। সেটি গ্রহণ করে খড়্গপুর-চিচিড়া জাতীয় সড়কে ৫২কোটি টাকা ব্যয়ে দুই লেনের আন্ডারপাস তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। গতবছর এপ্রিল মাসে কাজ শুরু হয়। মঙ্গলবার রাত ১০টা পর্যন্ত আন্ডারপাসের দ্বিতীয় ব্লকের ঢালাই হয়। কিন্তু রাত ২টোর সময়ই নির্মীয়মাণ অংশটি পুরো ধসে প‌঩ড়ে। এঘটনা নির্মাণকাজ চলাকালীন হলে বহু শ্রমিকের প্রাণহানি হতে পারত। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের আধিকারিকরা সকালেই ঘটনাস্থলে আসেন।
জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের আধিকারিক এস কে রায় বলেন, মঙ্গলবার রাত ১০টা অবধি কাজ হয়েছে। রাত ২টোর পর হাতির একটি বড়ো পাল এসে আন্ডারপাসের সাপোর্টের লোহার রডগুলিতে ধাক্কা মেরে চলে যায়। তার জেরেই ঘণ্টাখানেক পর নির্মীয়মাণ অংশ ভেঙে পড়ে।
কিন্তু বনবিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, গুপ্তমণি লাগোয়া জাতীয় সড়কে কোনো হাতির দল আসেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দাবি, মঙ্গলবার রাতে জাতীয় সড়কে হাতির পাল আসেনি।
এদিন গোপীবল্লভপুরের তৃণমূল প্রার্থী অজিত মাহাত খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। তিনি বলেন, কাজের সময় হলে নির্মাণশ্রমিকদের প্রাণহানি হতে পারত। যাদের গাফিলতিতে এঘটনা ঘটেছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ