Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দোলে জঙ্গলে গাড়ি নিয়ে যেতে নিষেধ বনদপ্তরের

দোলে জঙ্গলে গাড়ি নিয়ে যেতে নিষেধ বনদপ্তরের
  • ১৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: বসন্ত উৎসব উদযাপনে জঙ্গলে এলে গাড়ি নিয়ে ঘোরা যাবে না। নিতে হবে স্থানীয় ট্যুরিস্ট গাইডদের। এমনই নির্দেশিকা জারি করল ঝাড়গ্রাম বনবিভাগ।

Advertisement

বেলপাহাড়ীর জঙ্গল এলাকায়শ্যাডো জোনের সংখ্যা ৩০টি।এই সব জোনে মোবাইলের কোনও নেটওয়ার্ক মেলেনা। জেলার অন্য  জঙ্গল এলাকাতেও নেটওয়ার্ক পাওয়ার সমস্যা রয়েছে। গুগল ম্যাপ দেখে জঙ্গলে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকরা পথ হারিয়ে বিপদে পড়ছেন।সেই কারণেই এমন নির্দেশিকা। মঙ্গলবার ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, ‘আজ বসন্ত উৎসব পালিত হবে জঙ্গলমহলে। পর্যটকদের জন্য বেশকিছু নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।জঙ্গলে বেড়াতে গেলে স্থানীয় টুরিষ্ট গাইড নিয়ে যেতে হবে। জঙ্গলে কোনও ধরনের যানবাহন নিয়ে যাওয়া যাবেনা।দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।’ 
ঝাড়গ্রামে গুগল ম্যাপ দেখে জঙ্গল ঘোরার প্রবণতা বাড়ছে। কিন্তু নেটওয়ার্ক না থাকলে পথ হারিয়ে দিশাহীন হয়ে পড়ছেন পর্যটকরা। গত কয়েক মাসে এমন বেশ কয়েকটিঘটনাসামনে এসেছে।জেলার উত্তর ও দক্ষিণ অংশের জঙ্গল এলাকায় হাতির উপদ্রব রয়েছে।বেলপাহাড়ীর জঙ্গলে বাঘের পায়ের ছাপও পাওয়া যাচ্ছে। তারপরও পর্যটকরাগুগল ম্যাপের ওপর  ভরসা করে গভীর জঙ্গলে চলে যাচ্ছেন। নদীয়ার চাকদা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক পলাশ কুমার রায় গত ডিসেম্বর মাসের ৯ তারিখে বন্ধুদের সঙ্গে গাড়ি করে বেলাপাহাড়ী বেড়াতে এসেছিলেন। কাঁকড়াঝোর জঙ্গলথেকে ঝিনুক ক্যাম্পে যাচ্ছিলেন গুগল ম্যাপ অনুসরণ করে।কিন্তু নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলের বদলে কাঁকড়াঝোর জঙ্গলের এক অজানা জলাশয়ের কাছে পৌঁছে যান তাঁরা। শেষেস্থানীয়এক গ্ৰামবাসীর সহযোগিতায় নিরাপদ স্থানে ফিরে আসেন।পলাশ বাবু বলছিলেন, ‘বেলপাহাড়ীর জঙ্গল এলাকায় শ্যাডোজোন থাকার কথা জানা ছিলনা। তাই বেশ বেগ পতে হয়েছে।’ কলকাতার গড়িয়াহাটের বাসিন্দা বছর চল্লিশের হিমাদ্রি রায় বলেন, স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ফেব্রুয়ারি  মাসের ১৫ তারিখে বেলপাহাড়ীএসেছিলাম। গুগল ম্যাপ দেখে বেলপাহাড়ীচেক পোস্টের বাম রাস্তা ধরে কাঁকড়াঝোর জঙ্গলের দিকে যাচ্ছিলাম। মাঝপথে ভুলে করে জঙ্গলের গভীরে ঢুকে যাই। ঘুরপথে সেখান থেকে বেরিয়ে আসি। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে জানতে পারি, এই এলাকায় বাঘের আনাগোনা বেড়ে গিয়েছে।শ্যাডোজোনের কথা জানতাম না। ভ্রমণ সংক্রান্ত গ্ৰুপগুলিতে এই নিয়ে লেখালেখিও চোখে পড়েনি।’
ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের তরফে জঙ্গল এলাকায় না যাওয়ার জন্য বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। কিন্তু কথা শুনছে না পর্যটকদের একটা অংশ। ব্যাক্তিগত গাড়ি নিয়ে জঙ্গলের গভীরে ঢুকে পড়ছেন। গুগল ম্যাপের ওপর ভরসা করে জঙ্গলে বিপদে পড়েছেন। বিষয়টি জেলার বন বিভাগের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বসন্ত উৎসবে বিপুল সংখ্যক পর্যটক ঝাড়গ্রামে বেড়াতে আসবেন। পর্যটকদের বড় একটা অংশ  বেলপাহাড়ীতে ভিড় করবেন। জেলার বন বিভাগ এই সময় কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছেনা। জেলার বন বিভাগের এক কর্তা বলেন, জঙ্গল এলাকায় শ্যাডো জোন থাকা নিয়ে আরও প্রচার বাড়ানো হবে। গত ডিসেম্বরে গোড়ায় ঝাড়খন্ডের চাকুলিয়া থেকে বাঘিনী জিনাত বেলপাহাড়ীর জঙ্গলএলাকায় ঢুকে পড়েছিল। গলায় কলার আইডি থাকা স্বত্বেও শ্যাডো জোনের কারণে তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। গুগল ম্যাপ অনুসরণ করে জঙ্গলে আসা এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ