সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: বানারহাট ব্লকের গয়েরকাটা চা বাগানের শ্রমিক সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত বনদপ্তর। স্থায়ী ক্রেশ নির্মাণের দাবি জানিয়ে বনদপ্তর বাগান কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছে। গত শুক্রবার বাগানের আংরাভাসা এক নম্বর সেকশনে ঝোপের আড়াল থেকে চিতাবাঘ বেরিয়ে ঘায়েল করেছিল চার চা শ্রমিককে। তাদের মধ্যে একজন এখনও হাসপাতালে ভর্তি। বনকর্মীরা বাগানে এসে সচেতনতা প্রচার করে গেলেও ভয় কটেনি শ্রমিকদের। তাই এখন কোলের শিশুকে নিয়ে চা পাতার তোলার কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন অঞ্জল্লি এক্কা, সুন্দরী মুন্ডার মতো মহিলা শ্রমিকরা।
বাগানে ক্রেশ নেই। চা গাছের শেড ট্রি’র নীচে ত্রিপল টাঙিয়ে শিশুদের রাখা হয়। দেখাশোনার জন্য একজন মহিলা থাকলেও কোনও হিংস্র প্রাণী এলে তাঁর পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। রিনা ওরাওঁ নামে এক চা শ্রমিক বলেন, শিশুদের উপর চিতাবাঘ ঝাঁপিয়ে পড়লে কী হতো? তাই অনেকেই ভয়ে শিশুদের পিঠে বেঁধে চা পাতা তুলছেন এখন।
যদিও গয়েরকাটা চা বাগানের ওয়েলফেয়ার অফিসার অলোক হাজরা বলেন, আমাদের স্থায়ী ক্রেশ রয়েছে। কী সেই স্থায়ী ক্রেশ, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পাকা দেওয়ালযুক্ত ঘর না থাকলেও ত্রিপল টাঙিয়ে বাচ্চাদের রাখা হয়। শিশুদের দেখভালের জন্য একজন মহিলা নিযুক্ত রয়েছেন। তবে পাকা ক্রেশ নির্মাণের আশ্বাস নিয়েছেন মাদারিহাটের বিধায়ক জয়প্রকাশ টোপ্পো। তিনি বলেন, শীঘ্রই এবিষয়ে শ্রমদপ্তরের সঙ্গে কথা বলব।
বিন্নাগুড়ি বন্যপ্রাণ শাখার রেঞ্জার হিমাদ্রী দেবনাথ বলেন, আমরা বাগান কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি শিশুদের সুরক্ষায় খুব দ্রুত স্থায়ী ক্রেশ নির্মাণ করা হোক।