সংবাদদাতা, বাগডোগরা: জঙ্গল ঘেঁষা গ্রামের গবাদিপশু থেকে হাতির দেহে ট্রাইপ্যানোসোমা প্রোটোজোয়ার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে, অনুমান বনদপ্তরের। সংক্রমণ রুখতে এবার শুরু হল বনাঞ্চল লাগোয়া এলাকার গবাদিপশুর রক্তের নমুনা সংগ্রহের কাজ। শনিবারও বাগডোগরা বনাঞ্চলের সেন্ট্রাল ফরেস্ট বস্তি, ডহরা বস্তি ও এমএমতরাই এলাকার গবাদিপশুর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বাগডোগরা বনাঞ্চলের একটি হস্তিশাবকের মধ্যে এই ট্রাইপ্যানোসোমা সংক্রমণ দেখা মাত্রই জঙ্গলের প্রাণী ও মানুষের কথা চিন্তা করে আঁটোসাঁটো ব্যবস্থা নিচ্ছে বনদপ্তর। সংক্রমিত ওই হাতিটিকে কোয়ারেন্টাইন করে চিকিৎসা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই থাইল্যান্ড থেকে চারজনের বিশিষ্ট চিকিৎসকের টিম চিকিৎসা করছে হস্তিশাবকটির।
এই রোগ বন্য জীবজন্তু থেকে মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে বনদপ্তর। কোনওমতেই যাতে জঙ্গলে গৃহপালিত পশু না ঢুকতে পারে সেজন্যও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছেন বনকর্মীরা। কারণ গবাদিপশু যদি সংক্রমিত হয় সেক্ষেত্রে সেই রোগ গবাদিপশু থেকে দ্রুত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেই কারণেই জঙ্গলঘেঁষা এলাকার গবাদিপশুর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই বৃহস্পতিবার বাগডোগরা বনাঞ্চল সংলগ্ন এমএম তরাইয়ে দু’টি গোরুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ডহরা বস্তিতে একটি গোরুকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা গিয়েছে। এতেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সকলের। যদিও মৃত দু’টি গোরুর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা যায়নি। তারআগেই মৃত প্রাণীগুলিকে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছে। তাই গোরু দু’টির মৃত্যুর কারণ সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না বলে জানান বনদপ্তরের কার্শিয়াংয়ের ডিএফও দেবেশ পাণ্ডে। ডিএফও বলেন, জঙ্গল সংলগ্ন গবাদিপশুর দেহ থেকে দু’টি করে রক্তের নমুনা নেওয়া হচ্ছে। একটি যাবে বেলগাছির সরকারি ল্যাবে আর অন্যটি পাঠানো হবে অন্যএকটি ল্যাবে। সংক্রমণ রুখতে জঙ্গল ঘেঁষা এলাকায় বনদপ্তরের কড়া নজরদারি থাকছে। আপাতত বনাঞ্চল সংলগ্ন গ্রামবাসীদের গোরু ও মোষের থেকে সেই নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। নমুনা ল্যাবে পাঠানোর পর কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগবে রিপোর্ট আসতে। ততক্ষণ পর্যন্ত বনদপ্তরের কড়া নজরে থাকছে এ বিষয়ে।